গণভোট ও সংবিধান সংস্কার বিতর্কে বিরোধী দলের রাজপথে বিক্ষোভ
সংবিধান বদলানোকে কেন্দ্র করে সংসদ ছেড়ে এই প্রথম রাজপথে নেমেছে বিরোধী দলগুলো। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, বিএনপি সুকৌশলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে গণভোটকে অবজ্ঞা করে জাতিকে অপমান করেছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সংস্কার এড়িয়ে আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
২০টি অধ্যাদেশের কার্যকারিতা হারানো
এই বিক্ষোভের পটভূমিতে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলে জানা গেছে। এই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- গণভোট সম্পর্কিত বিধান
- গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত আইন
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশ
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ
এই অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ায় রাজনৈতিক ও আইনি অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ও দাবি
বিক্ষোভ সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, সংবিধান সংশোধনী নয়, সংস্কারের বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল এক হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র ক্ষমতা একক ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত করবে বলে গণভোট চায় না বিএনপি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেছেন, বিএনপি যে রাজনীতি করছে, তা সুবিধাবাদের রাজনীতি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণরায়কে হাইকোর্ট দেখালে জনগণ রাজপথে নেমে বিএনপিকে মোকাবেলা করবে।
বিক্ষোভ ও মিছিলের বিবরণ
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে থেকে মিছিল করে ১১ দলীয় জোটের নেতারা। মিছিলে যোগ দেন জোটের হাজারো নেতাকর্মী। পরে মিছিলটি পল্টন মোড় ঘুরেনাইটিঙ্গেল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: যমুনা টেলিভিশন। এই বিক্ষোভ ও অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা হারানো বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।



