রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন: ডা. শফিকুর রহমান
রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয় স্বীকার

রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন: বিরোধীদলীয় নেতার দাবি

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেছিলেন। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং গণভোটের দাবিতে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া এবং বিরোধী দলের প্রস্তাবটি পাশ কাটিয়ে অন্য প্রস্তাব আনার প্রতিবাদে এদিন সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন ১১ দলের সংসদ সদস্যরা।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও রাষ্ট্রপতির স্বীকারোক্তি

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান ৫ আগস্টের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তার পরবর্তী সাংবিধানিক শূন্যতা নিরসনে আমরা বঙ্গভবনে বসেছিলাম। প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র পেয়েছেন। আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি মঞ্জুর করেছেন? তিনি বলেছেন, মঞ্জুর করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশ দ্রুত নিয়মতান্ত্রিক এবং গণতান্ত্রিক শাসনের দিকে ফিরে আসুক।'

জামায়াত আমির আরও উল্লেখ করেন যে, সেই সময় তারা দ্রুত নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক শাসনে ফেরার পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী তরুণ সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার তাগিদ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছিল এবং তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সংবিধান ব্যবহার করে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর যে ফ্যাসিবাদ চালানো হয়েছে, তা নিরসনে জনগণের রায় বা গণভোটের দাবিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংসদ ও গণভোটের বিষয়ে বিরোধী দলের ক্ষোভ

বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের বিষয়ে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার থাকলেও সরকার সেটি আগে বাস্তবায়ন করতে চাইছে না। তিনি বলেন, 'যেহেতু সংসদের ভেতর জনগণের ন্যায্য দাবির সম্মান করা হচ্ছে না, তাই আমরা জনগণের কাছে ফিরে যাব। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে গণভোটের রায় আদায় করা যায়, বিরোধী দল এখন সেই পথেই হাঁটবে।'

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন যে, গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও বিরোধী দল সরব থাকবে। খুব দ্রুতই সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।