ফেসবুক পোস্টে গণভোটের দাবি, আদিতমারীতে ছাত্রদল নেতার বহিষ্কার
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ছাত্রদলের এক নেতাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি করে স্ট্যাটাস দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতা রাকিবুল হাসান আদিতমারী উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বহিষ্কারের প্রক্রিয়া ও নির্দেশনা
গতকাল সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আমরুল হাসান মোল্লা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাকিবুল হাসানকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে দলের অন্য নেতা-কর্মীদের যেকোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার কঠোর নির্দেশও জারি করা হয়েছে।
ফেসবুক স্ট্যাটাস ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল বেলা একটার দিকে ‘এমডি রাকিবুল হাসান’ নামে থাকা ফেসবুক আইডি থেকে ‘টালবাহানা না করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন’ শীর্ষক একটি স্ট্যাটাস প্রকাশ করা হয়। ওই ফেসবুক আইডিটি রাকিবুল হাসানের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। মজার বিষয় হলো, গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে ফেসবুকে এই পোস্ট দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই রাকিবুলের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়।
জেলা ছাত্রদল নেতৃত্বের ব্যাখ্যা
লালমনিরহাট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ সাদিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “এর আগে বিতর্কিত মন্তব্য করায় রাকিবুল হাসানকে দুবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি। এ অবস্থায় তাঁকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।” তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রাকিবুল হাসানের রাজনৈতিক পটভূমি
রাকিবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের গণ–অভ্যুত্থানে লালমনিরহাট জেলা শহর ও আদিতমারীতে তিনি সামনের সারিতে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এ ছাড়া ২০২২ সালে বিএনপির আন্দোলনে অংশ নিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের দ্বারা হামলার শিকার হন তিনি।
বহিষ্কারপ্রাপ্ত নেতার প্রতিক্রিয়া
বহিষ্কারের প্রসঙ্গে রাকিবুল হাসান বলেন, “স্কুলজীবন থেকেই বিএনপির নীতি ও আদর্শের প্রতি আমার গভীর আগ্রহ। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দলের অবস্থান আমাকে আকৃষ্ট করেছে। দশম শ্রেণি থেকেই ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত আছি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থান তথা গণ–আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমি চাই এসব ঘটনার বিচার হোক এবং দেশের মানুষের জন্য গণভোট বাস্তবায়ন করা হোক। শুধু একটি পোস্ট দেওয়ার কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত বক্তব্যের কারণে দ্রুত বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কঠোর নীতির প্রতিফলন।



