টেন্ডার না পেয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হুমকি: বিএনপি যুবদল নেতা বহিষ্কার
টেন্ডার না পেয়ে হুমকি: যুবদল নেতা বহিষ্কার

টেন্ডার না পেয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হুমকি: বিএনপি যুবদল নেতা বহিষ্কার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একটি টেন্ডার না পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেবকে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এই শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, হাসানুর রহমান দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

এই কারণে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলার আওতাধীন কিশোরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে জানানো হয়।

আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতার কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না। পাশাপাশি যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার সকালে, যখন হাসানুর রহমানসহ কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের টেন্ডার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা ডা. নীল রতন দেবকে মারধরের হুমকি দেন।

চিকিৎসক ও নার্সদের কর্মবিরতি

এই ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মবিরতি পালন করেন, যা স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। পরে হাসানুর রহমান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। তবে এই ক্ষমা চাওয়া সত্ত্বেও দলীয় পর্যায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই বহিষ্কার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। এটি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ডের তদারকি এবং আইন মান্য করার বার্তাও দেয়। বিএনপি যুবদলের এই সিদ্ধান্তটি জনগণের কাছে একটি স্পষ্ট সংকেত পাঠিয়েছে যে দলের কোনো সদস্য আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।