পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের জীবনাবসান
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রভাবশালী নেতা মুকুল রায় গতকাল রোববার গভীর রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। কলকাতার নিউটাউন এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তিনি একমাত্র পুত্র সাবেক বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়কে রেখে গেছেন।
রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন
মুকুল রায়ের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে। তবে ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কংগ্রেসের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তিনি দলত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের প্রধান কারিগরদের একজন। দল গঠনের পর তিনি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন দলের প্রধান। তাঁর কৌশলগত দক্ষতার জন্য তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের চাণক্য বলা হতো, এমনকি কেউ কেউ তাঁকে সিপিএমের অনিল বিশ্বাসের সঙ্গে তুলনা করতেন।
দল পরিবর্তন ও শেষ দিনগুলো
২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে তিনি বিজেপির টিকিটে কৃষ্ণনগর উত্তর আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচলবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন। তাঁর এই দল পরিবর্তনের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
শিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবন
মুকুল রায়ের জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৭ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায়। তিনি কাঁচরাপাড়ার হার্নেট স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর নৈহাটির ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র কলেজে পড়াশোনা করেন। সর্বশেষ তিনি তামিলনাড়ুর কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। আজ সোমবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে শোক
মুকুল রায়ের মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং তৃণমূল সংসদ সদস্য পার্থ ভৌমিকসহ বিভিন্ন দলের নেতারা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তাঁরা মুকুল রায়ের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও অবদানের কথা স্মরণ করে শোকবার্তা দিয়েছেন।
