নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার পর রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এই মিছিল শুরু হয়। শাহবাগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ ও স্লোগান
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়েছেন। তারা 'ধর্ষকদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না', 'ধর্ষকদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও' এবং 'একদিনে ৩ খুন, তারেক জিয়ার অনেক গুণ' এর মতো নানা স্লোগান দেন।
হাতিয়ায় সহিংসতার অভিযোগ
এনসিপির অভিযোগ, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর ও সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালানো হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপি-সমর্থিত গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ
এনসিপি দাবি করেছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চানন্দি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় 'শাপলা কলি' প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে তিন সন্তানের জননীকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর স্বামীকে বেঁধে রেখে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন সকালে তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। বর্তমানে ওই নারী নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
হামলার ব্যাপকতা ও আহতের সংখ্যা
এনসিপি জানায়, গত তিন দিনে হাতিয়ায় তাদের অন্তত ৫০০ নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে এবং অন্তত ১৩ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এলাকায় ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
দাবি ও প্রতিবাদ
এনসিপি বলছে, ভোটাধিকার প্রয়োগের কারণে কোনো নাগরিকের ওপর সহিংসতা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা জোরদারের দাবি জানিয়েছে। বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
