বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের রায় অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। রেফারেন্ডামের ফলাফল বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ১১-দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রেফারেন্ডামের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, 'প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ তাদের রায় দিয়েছেন। এই রায় অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। জনমত উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী।'
জনগণের জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি
তিনি আরও বলেন, নাগরিকরা তাদের ভোটাধিকার ও নির্বাচনী রায়ের সঠিক প্রতিফলন আশা করেন। তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হলে জনগণ নিজেই জবাব দেবে। 'সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ নিজেই উত্তর দেবে,' বলেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের রাজনীতিকরণের অভিযোগ
তিনি অভিযোগ করেন, যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ খাতে উপযুক্ত স্বীকৃতি পাচ্ছেন না, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের রাজনীতিকরণের মাধ্যমে ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে। সংসদেও পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের মতো বিষয় উত্থাপনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যদিও সংসদ জনগণের উদ্বেগ প্রতিফলিত করার জন্য।
১৯৯৬ সালের প্রসঙ্গ
১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন কর্তৃপক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন ও পাস করতে বাধ্য হয়েছিল। 'এবারও তাদের রেফারেন্ডামের রায় বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হবে। শান্তিপূর্ণভাবে তা মেনে নিন। মানুষকে রাস্তায় নামাবেন না। সময় খুব সীমিত। সময় ফুরিয়ে আসছে। এই সময়ের মধ্যে পরিবর্তন না হলে ফলাফলের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে,' তিনি যোগ করেন।
জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশী শক্তির কাছে 'ইজারা' দেওয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ জাতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকবে। 'আমরা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না; প্রয়োজনে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত,' বলেন তিনি।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি
তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকারের অধীনেই এসব বন্ধ হবে। তিনি আইনের শাসন, জনগণের অধিকার ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের জন্য 'সংসদে ও রাস্তায়' সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। ভীতি প্রদর্শন, মামলা বা গ্রেপ্তার জন আন্দোলন দমন করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এলডিপি চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ।



