প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গ্রীষ্মকালীন সেনা মহড়া পরিদর্শন: ইতিহাসের নতুন দিগন্ত
প্রধানমন্ত্রীর গ্রীষ্মকালীন সেনা মহড়া পরিদর্শন: ইতিহাসের নতুন দিগন্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় সরাসরি উপস্থিত হন। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় অবস্থিত ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তার আকস্মিক উপস্থিতি সেনাসদস্যদের মধ্যে মুগ্ধতা সৃষ্টি করে।

প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো

প্রধানমন্ত্রী প্রশিক্ষণ এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ হেঁটে অতিক্রম করে ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছে গিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক তিনি সরেজমিনে দেখেন। এমনকি তিনি সেনা বাঙ্কারেও নেমে যান এবং গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন ও দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন। তাদের সঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করে খান, যা নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল বিষয়ে মতবিনিময়ের সময় তিনি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তার সাথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগেও বিভিন্ন বক্তৃতায় সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের সাহস ও দেশের গৌরবের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার বিশ্বাস সশস্ত্রবাহিনী দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না। নিরাপত্তা কৌশল যাতে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে জিয়াউর রহমানের অবদান ও তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর একটি সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইউনিট ও জনবল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছিলেন। ১৯৭৪-৭৫ সালে যেখানে সেনাসংখ্যা ছিল ৫০ হাজারের কম, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে (১৯৭৬-৭৭) তা প্রায় ৯০ হাজারে উন্নীত করা হয়। সৈনিক ও অফিসারদের পেশাদারিত্ব বাড়াতে তিনি দেশি-বিদেশি উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। একাডেমি ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রশিক্ষণের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়।

আধুনিক যুদ্ধের কৌশলের সাথে তাল মিলিয়ে তিনি পদাতিক, গোলন্দাজ (আর্টিলারি), সিগন্যাল ও ইঞ্জিনিয়ার কোরের মতো নতুন নতুন ইউনিট, ব্যাটালিয়ন এবং ব্রিগেড তৈরি করে বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও সামরিক অভ্যুত্থান রোধ করে বাহিনীর মধ্যে কঠোর কমান্ড ও চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনতে নানামুখী পদক্ষেপ নেন। তাঁর শাসনামলে নবগঠিত রাষ্ট্র এবং ভূকৌশলগত নিরাপত্তার প্রয়োজনে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সম্প্রসারণসহ বেশ কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন ব্রিগেড, পদাতিক ডিভিশন (যেমন- ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও ৬৬ পদাতিক ডিভিশন) এবং বেশ কয়েকটি ইউনিট প্রতিষ্ঠা হয় জিয়াউর রহমানের হাতেই। সেনা সদস্যদের মনোবল বাড়াতে তিনি দ্রুত পদোন্নতি এবং ব্যাপক হারে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করেন। সেনাবাহিনীর জন্য যুগোপযোগী অস্ত্র, গোলাবারুদ, আধুনিক পরিবহন ও যোগাযোগ সরঞ্জাম সংগ্রহের ব্যবস্থা করেন।

জিয়াউর রহমান সেই সময়ে আধুনিকায়নের যে ভিত্তি বা উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা তখন তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেনি। সেখানে মাত্রা যোগ হতে পারে তারেক রহমানের মাধ্যমে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সামরিক পরিবারে জন্ম, সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং সাবেক সেনাপ্রধানের সন্তান হওয়ায় তারেক রহমানের মধ্যে সামরিক বাহিনীর প্রতি স্বাভাবিকভাবেই একটি আলাদা আগ্রহ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আছে।

সেনাবাহিনীর বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার ধারাবাহিকতায় দেশ ও জনতার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে ক্রমেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যথা সময়ে যথা কাজটিই তারা করছে। যার উদাহরণ চব্বিশের গণআন্দোলনের বিজয়ে সারথী হওয়া। এ সেনাবাহিনীর রয়েছে সম্মুখ সমরের অভিজ্ঞতা, সাফল্যের সাথে বিচ্ছিন্নতাবাদ দমনের অদম্যতা। সমর-সরঞ্জাম ও অস্ত্রশস্ত্রে তারা এখনো আধুনিকতার শীর্ষ পর্যায়কে স্পর্শ করতে পারেনি, তবে তাদের ‘ইটস দ্য ম্যান বিহাইন্ড গান হুইচ ম্যাটারস’ বড় প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর জন্মই যুদ্ধ ও জয় দিয়ে। জয়ী হতে হতেই এতদূর এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন সেনাবাহিনীর মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ দেশে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।