চাঁদা দাবির ফোনালাপ ভাইরাল, গাজীপুর ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
চাঁদা দাবির ফোনালাপ ভাইরাল, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের ৫১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রাতুল শিকদার ওরফে অমিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ‘এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইবো না, প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইবো না’—এমন মন্তব্য সম্বলিত একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বহিষ্কারের কারণ

মঙ্গলবার গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গত রাতেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে রাতুল শিকদার অমিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে সোমবার একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে রাতুল শিকদারকে এক ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করতে শোনা যায়।

অভিযোগ ও তদন্ত

মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ পোশাকশ্রমিক ট্রেডিং ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে রাতুল শিকদারসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, তারা দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যালয়ে নিয়মিত চাঁদা দাবি করতেন। কার্যালয় স্থানান্তরের পরও চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। কয়েক মাস আগে তাকে জোর করে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে ৬৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভাইরাল অডিওর বক্তব্য

ভাইরাল হওয়া অডিওতে রাতুল শিকদারকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি আমাকে একদিন দিয়েছেন ১ হাজার টাকা, আরেক দিন দিয়েছেন ৫০০ টাকা। আজকে ভাই ২-৩ হাজার টাকা দিয়েন। আপনি টাকাটা পাঠান না কেন বুঝলাম না। অফিসের কিন্তু কিছুই বার করতে পারবেন না।’ এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইবো না। আপনি তো পাপ্পু সরকারের নাম বেচেন মিয়া। আপনি সুমন লস্কররে কইয়েন, তারেক রহমানের নাম কইলেও কাজ হইবো না। এইডা আমার বাড়ির রোড। এখানে প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইবো না। আমি ফাপররে ডরাই না।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের পদক্ষেপ

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ছাত্রদল নেতা রাতুল শিকদারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।