জাতীয় সংহতি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট: সময়ের দাবি
জাতীয় সংহতি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট: সময়ের দাবি

জাতীয় সংহতি: উন্নয়নের চালিকাশক্তি

বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় সংহতি বারবার দেশের অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও অঞ্চলের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এই চর্চা রাষ্ট্রের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির পেছনে মৌলিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত। বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. কুদরত-ই-জাহান তার মতামতভিত্তিক নিবন্ধে বলেছেন, বাংলাদেশে একটি জাতীয় সংহতি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা আর কেবল প্রত্যাশা নয়, বরং সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ছাতার নিচে বাঙালিদের পাশাপাশি চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, ত্রিপুরার মতো বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে। ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একইভাবে ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে আসছে। এই বহুত্ববাদী ঐতিহ্যই জাতীয় সংহতির অন্যতম ভিত্তি।

ঐতিহাসিক আন্দোলনে সংহতি

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতীয় সংহতি ছিল প্রধান শক্তি। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানও জাতীয় ঐক্যের শক্তিশালী উদাহরণ। ড. কুদরত-ই-জাহান উল্লেখ করেছেন, জুলাই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের জনগণ যৌথ স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সক্ষমতা রাখে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মালয়েশিয়ার অনুসরণযোগ্য মডেল

মালয়েশিয়া সরকার 'ইনস্টিটিউট কাজিয়ান দান লাতিহান ইন্টিগ্রাসি ন্যাসিওনা' (ন্যাশনাল ইউনিটি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট) পরিচালনা করে, যা বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্য গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করে। মালয়েশিয়া সম্প্রীতি সনদ (Harmony Charter) প্রণয়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ড. কুদরত-ই-জাহান বলেন, এই মডেল বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর অনুসরণীয় উদাহরণ হতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা

জাতীয় সংহতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠলেও দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে গবেষণা, নীতিনির্ধারণ ও প্রশিক্ষণের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন। ড. কুদরত-ই-জাহানের মতে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের যাত্রাপথ বহুবার সংকট ও সংঘাতের মুখোমুখি হয়েছে। স্থিতিশীল গণতন্ত্র ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ঐক্যবিষয়ক ইকোসিস্টেম উন্নত করা, শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

সময়োপযোগী উদ্যোগ

লেখক উপসংহারে বলেন, মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে একটি জাতীয় সংহতি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।