মালয়েশিয়ায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সোমবার পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রা ভবনে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার সহধর্মিণী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ড. জুবাইদা রহমান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল, প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি খালেদ নুরদিনসহ দেশটির মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০৩ সদস্য ও তিন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন। রয়্যাল মালয় রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের এই দলটির নেতৃত্ব দেন মেজর নুর আহমাদ জায়িম জাহারি।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও চুক্তি
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, জ্বালানি, কৃষি ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও মতবিনিময় করবেন দুই নেতা। সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ গবেষণা ও বিনিয়োগ প্রসার এবং সুবিধা বৃদ্ধিসংক্রান্ত দুটি কূটনৈতিক নোট বিনিময় (এক্সচেঞ্জ অব নোটস) অনুষ্ঠিত হবে।
বাণিজ্য সম্পর্কের অগ্রগতি
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ১৮ বিলিয়ন রিঙ্গিত (প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এর মধ্যে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ০৮ বিলিয়ন রিঙ্গিত (প্রায় ২ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যেখানে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ছিল প্রধান রপ্তানি খাত। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার আমদানির পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ১ বিলিয়ন রিঙ্গিত (প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), যার বড় অংশ এসেছে তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও জুতা শিল্প থেকে। বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার ২৮তম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ভারতের পর বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, রপ্তানি গন্তব্য এবং আমদানির উৎস হিসেবে অবস্থান করছে।



