দুবাইয়ে শামীম ওসমানের কেক কাটার ছবি: পুরোনো ছবি ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের গুজব
শামীম ওসমানের কেক কাটার ছবি: পুরোনো ও ভুয়া গুজব

দুবাইয়ে শামীম ওসমানের কেক কাটার ছবি: ফ্যাক্টচেকে পুরোনো ও ভুয়া প্রমাণ

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শামীম ওসমানের দুবাইয়ে কেক কাটার একটি ছবি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। এই ছবিটি নিয়ে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে, কিন্তু ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানারের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে ছবিটি পুরোনো এবং সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টটিও ভুয়া।

গণঅভ্যুত্থানের পর শামীম ওসমানের অবস্থান

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক নেতাকর্মী দেশ ত্যাগ করেন। নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানও এই তালিকায় রয়েছেন বলে জানা যায়। তবে তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।

ভাইরাল ছবির উৎস ও সময়

সালমা ওসমান লিপি নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ১১ এপ্রিল রাতে একটি পোস্ট করা হয়, যেখানে শামীম ওসমানের নাতির দুবাইয়ে কেক কাটার ছবি শেয়ার করা হয়। এই পোস্টটি দ্রুত ৫২০ বার শেয়ার হয় এবং সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ছবিটি আসলে শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছিলেন। অর্থাৎ, এটি একটি পুরোনো ছবি, যা বর্তমান সময়ের সাথে সম্পর্কিত নয়।

ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও গুজব ছড়ানো

রিউমার স্ক্যানার তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে সালমা ওসমান লিপি নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ভুয়া। এই অ্যাকাউন্টটি গত ১ মার্চ খোলা হয়েছে এবং এরপর থেকেই এটি নানা ধরনের গুজব ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানের মতে, এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর একটি উদাহরণ, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সতর্কতা ও সচেতনতা

এই ধরনের ভাইরাল ছবি ও পোস্টের ব্যাপারে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকা উচিত। যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে সত্যতা যাচাই করা জরুরি, বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে সংবেদনশীল বিষয়ে। রিউমার স্ক্যানারের মতো ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানগুলো এমন গুজব মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

শামীম ওসমানের দুবাইয়ে অবস্থান নিয়ে এই গুজবটি সামাজিক মাধ্যমের দ্রুত ছড়ানো তথ্যের ঝুঁকি তুলে ধরে, যা ডিজিটাল যুগে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।