বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে পাঁচ দিনের ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির মধ্যে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, সেমিনার এবং বিক্ষোভ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, আগামী ৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করা হবে। রাজধানীর শাহবাগে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
বিস্তারিত কর্মসূচি
কর্মসূচির বিস্তারিত সময়সূচি নিম্নরূপ:
- ৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল: সারা দেশে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ
- ১১ এপ্রিল: সব মহানগরীতে বিক্ষোভ
- ১২ এপ্রিল: সব জেলায় বিক্ষোভ
- ১৩ এপ্রিল: রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাতীয় সেমিনার
নেতাদের উপস্থিতি
সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান) প্রমুখ নেতা।
পূর্ববর্তী বৈঠক
এর আগে সকাল ১০টা থেকে আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের একটি অধিবেশন আহ্বান করা হয়। এই বৈঠকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে গভীর আলোচনা করে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা। নেতারা সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
এই কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ায় গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের কাছে দাবি আদায়ের জন্য একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



