বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় সরকারের ৪৭ দিনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা
শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই সভায় সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা সরকারের ৪৭ দিনের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন।
সরকারের কর্মসূচিতে সন্তোষ প্রকাশ
সভা শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গত ৪৭ দিনে যে কর্মসূচিগুলো নিয়েছেন, সে বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। কর্মসূচিগুলো সম্পর্কে সদস্যদের মতামত নিয়েছেন।’ স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় সরকারের ৪৭ দিনের কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে উল্লেখযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া, আগামী পয়লা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনাকে সরকারের একটি সাফল্য হিসেবে মূল্যায়ন করে নেতারা এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তৃত করার মতামত দেন।
জ্বালানি সংকট ও কাউন্সিল প্রস্তুতি
সভায় সারা দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতা নিয়েও আলোচনা হয়। নেতারা মনে করেন, জ্বালানিসংকটের চেয়ে আতঙ্ক বেশি। এই আতঙ্কের কারণে অনেকে অহেতুক মজুত করছে, আবার অনেকে চোরাচালানি করছে। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি চোরাচালানি ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি, খুব দ্রুত দলের জাতীয় কাউন্সিল করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুতই চেষ্টা করব কাউন্সিলের দিকে যাওয়ার জন্য।’ এই আলোচনা দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকে ইঙ্গিত করে।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি সভার গুরুত্ব ও দলের ঐক্যকে প্রতিফলিত করে।
এই সভা বিএনপির রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলের নেতারা সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো স্বীকার করার পাশাপাশি, জ্বালানি সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।



