সরকারি নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর বক্তব্য
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান বলেছেন, যখনই কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে সেগুলো ক্ষতির প্রকল্পে পরিণত হয়। অন্যদিকে, সেগুলোকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হলে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়।
হবিগঞ্জের সমাবেশে মন্ত্রীর বক্তব্য
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার এক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী। এই স্থানটি মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সদরদপ্তর হিসেবে পরিচিত। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আহমদ আযম খান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লাভবান হওয়ার কারণে সেগুলো ক্ষতির মুখে পড়ে। তিনি বলেন, "আমি শুনেছি বেশ কয়েকটি চা বাগান বেসরকারি খাতে দেওয়া হয়েছে। যে চা বাগানগুলো বেসরকারি খাতে দেওয়া হয়েছে এবং যেগুলো বেসরকারি আছে সেগুলো কিন্তু লাভজনক।"
চা বাগানের উদাহরণ
মন্ত্রী তেলিয়াপাড়াসহ বাংলাদেশ টি কোম্পানির আওতাধীন চা বাগানগুলোর কথা তুলে ধরে বলেন, এই বাগানগুলো অলাভজনক হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় চলছে। তিনি উপস্থিত সংসদ সদস্যদের কাছে অনুরোধ জানান, কেন বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক হচ্ছে আর সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো অলাভজনক হয়ে পড়ছে তা গভীরভাবে পরীক্ষা করার জন্য।
তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা যদি চা বাগানকে ঠিকমতো পরিচর্যা করি তবে অবশ্যই লাভজনক হবে। চা বাগানের সঙ্গে অসংখ্য শ্রমিক জড়িত রয়েছেন, তাদের জীবন-জীবিকার প্রশ্নও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।"
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ
জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব হুমায়ূন কবিরের সঞ্চালনায় এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
- জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ
- হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন
- হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম
- মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব সাদেক খান
মন্ত্রীর এই বক্তব্য হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত সমাবেশের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



