চুয়াডাঙ্গায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয় 'অবমুক্ত' দাবিতে ছাত্রলীগের ভাইরাল ভিডিও
চুয়াডাঙ্গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়কে 'অবমুক্ত' ঘোষণা করে এর সামনে সাংগঠনিক ও জাতীয় পতাকা ওড়ানোর দাবি জানিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও আপলোড করা হয়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ভিডিওতে যা দেখা গেছে
১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমদাদুল হকের নেতৃত্বে পাঁচজন জেলা আওয়ামী লীগের ভাঙা কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন হেলমেট পরা অবস্থায় রয়েছেন। তাঁরা ব্যানার ধরে আছেন এবং একজনের হাতে জাতীয় পতাকা ও আরেকজনের হাতে সাংগঠনিক পতাকা দেখা গেছে।
ব্যানারে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি এবং 'শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে' লেখা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ইমদাদুল হককে বলতে শোনা যায়, 'চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের অফিস অবমুক্ত করা হলো।' এরপর তিনি বিভিন্ন স্লোগানে নেতৃত্ব দেন, যেখানে 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' এবং 'শেখ হাসিনা বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে'–সহ ছাত্রলীগের মূলনীতি–সম্পর্কিত বক্তব্য উচ্চারিত হয়।
পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান
ভিডিওতে ইমদাদুল হক ছাড়া অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান প্রথম আলোকে জানান, ভিডিওতে থাকা পাঁচজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। হেলমেট পরা তিনজনের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
একই ভিডিও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজের পাশাপাশি ইমদাদুল হকের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজেও আপলোড করা হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পেজে ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
পটভূমি ও অন্যান্য প্রতিক্রিয়া
প্রসঙ্গত, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর ছয় মাস পর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালসহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভেঙে ফেলেন।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক তানভীর ফয়সাল বলেন, 'জেলা শাখার সদস্যসচিব রনি বিশ্বাসসহ অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।' এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



