জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের বিতর্কিত আচরণ ও বক্তব্যের ব্যাখ্যা
ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দলটির আমির শফিকুর রহমান বক্তব্য দিয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে তার দুটি বিতর্কিত আচরণ ও বক্তব্যের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।
কূটনীতিক জড়িয়ে ধরার ঘটনা: নবীর সুন্নত বলে দাবি
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ২১ মার্চ রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে শফিকুর রহমান একজন বিদেশি কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেন। জামায়াতে ইসলামী এই আচরণকে হৃদ্যতাপূর্ণ বলে উল্লেখ করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী এর সমালোচনা করেছেন।
আলোচনা সভায় শফিকুর রহমান এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, 'ঈদ উপলক্ষে আমরা একটা রিসেপশনের আয়োজন করেছিলাম। বিদেশি কূটনীতিবিদরা এবং আমাদের বন্ধুরা এখানে এসেছিলেন। ঈদের দিনটা মানুষ একটু খোলা মনে সবার সঙ্গে মিশে। আমি একটু মিশেছি। হায়রে আল্লাহ এটা নিয়ে কী যে অবস্থা!'
তিনি আরও দৃঢ়ভাবে বলেন, 'নবীজি এইটা করেছেন রে ভাই। তিনি তাঁর প্রিয়তম সাহাবির সঙ্গে এটা করেছেন। এটা তো আমার নবীর প্রিয় সুন্নত। আমি তো আমার নবীর প্রতিটি সুন্নতকে ভালোবাসি। কে কী বলল, না বলল, এগুলোর পাত্তাই আমি দিই না। তুমি বলতেই থাকো, আমি করতেই থাকব।'
স্বাধীনতা ঘোষণা সংক্রান্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যা
সংসদ নির্বাচনের আগে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রামে এক নির্বাচনী জনসভায় শফিকুর রহমান বলেছিলেন, একাত্তর সালে চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল। তিনি দাবি করেছিলেন যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সবার আগে চিৎকার দিয়ে বলেছিলেন 'উই রিভল্ট' এবং তিনি জিয়াউর রহমানকে হাতে ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এই বক্তব্যের জন্যও তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন। আলোচনা সভায় তিনি এই বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন। শফিকুর রহমান বলেন, 'আমি বলেছি যে তিনি বিদ্রোহ করেছেন। বেকুবরা বুঝেছে, তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। এটা দিয়ে কী যে হইচই।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'জানবে না, বুঝবে না, তার আগে চায়ের কাপে ঝড় তুলবে। কেন তুলে জানেন? মূল ইস্যুকে চাপা দেওয়ার জন্য।'
আলোচনা সভার অন্যান্য বক্তারা
এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির। সঞ্চালক ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আরও বক্তব্য দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), মোবারক হোসাইন, কর্মপরিষদ সদস্য জসীমউদ্দিন সরকার, হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য কামাল হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।
শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আরও বলেন, 'মানুষ হিসেবে যদি ভুল করি অনুতপ্ত হব, ক্ষমা চাইব, কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু আমার শুদ্ধ কাজটাকে ভুল হিসেবে চালিয়ে দেবে, আর মনে করবা নিজেই শুধু জ্ঞানী আর সবাই চোখ বন্ধ করে অথবা উটপাখির মতো ঠোঁট বালিতে ঢুকিয়ে বসে আছে, এটা মনে করবা না। দুনিয়া এখন বড় চালাক। তুমি যে রাস্তা দিয়ে হাঁটো, ওই রাস্তা অবজার্ভ করার জন্য তোমার রাস্তায় শত সার্চলাইট বসে আছে।'



