রংপুর সিটি করপোরেশন (আরপিসিসি) নির্বাচনের তফসিল এখনও ঘোষণা না হলেও, সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নগরীতে তাদের তৎপরতা জোরদার করেছেন। ঈদুল আজহার আগেই প্রার্থীরা রংপুরে রঙিন পোস্টার লাগিয়েছেন, ভোটারদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং জনসংযোগ ও ছোট ছোট সভার মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন।
এ পর্যন্ত কমপক্ষে নয়জন ব্যক্তি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তাদের তৎপরতা ধীরে ধীরে রংপুরে একটি ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী
বিএনপি থেকে তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন। বর্তমান সিটি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মাহফুজুন্নবী ডনকে শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং তিনি ইতোমধ্যে জনসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়। শহীদুল ইসলাম মিজু, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দলীয় নেতৃত্ব সমর্থন করলে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, অতীতের নির্বাচনী ফলাফল ও ভোটের হার উল্লেখ করে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখপাত্র সারজিস আলম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন, তবে তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি। রংপুর এনসিপি ইউনিটের অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে, এবং কিছু নেতা সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মনিককে প্রার্থী করার পক্ষে মত দিচ্ছেন। মনিক মনোনয়ন পেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। দলের সদস্যরা একজন পরিচ্ছন্ন, গ্রহণযোগ্য ও স্থানীয় প্রার্থীর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন।
জাতীয় পার্টি
জাতীয় পার্টি ইতোমধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সাবেক দুই মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি নির্বাচনের সময়সূচি অনিশ্চিত থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত দোরগোড়ায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী
এদিকে, এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের মতো ছোট রাজনৈতিক ও আদর্শিক দলগুলো এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি বা উল্লেখযোগ্য প্রচারণা চালায়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবার রহমান ও বাংলার কোক সভাপতি তানভীর হোসেন আশরাফীও জনসংযোগ ও স্থানীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
সামগ্রিকভাবে, রংপুরে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছে আগেভাগেই, এবং সরকারি তফসিল ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক গতি তৈরি হচ্ছে।



