শিশু রামিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি কিংবা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ‘ডলার’ নামের কোনও ব্যক্তির উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে গত সোমবার (১ জুন) প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় হঠাৎ করেই ডলারের নাম উচ্চারণ করেন সোহেল রানা। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নতুন করে আলোচনা।
এরই প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন ডলার। তার দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে ডলার বলেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায় লোকসানের কারণে বর্তমানে আর্থিক সংকটে আছেন। তিন সন্তান নিয়ে কঠিন সময় পার করছেন বলেও জানান তিনি।
ডলার বলেন, রাজধানীর গুলিস্তানের পীর ইয়েমেনী মার্কেটে তার একটি পাঞ্জাবির দোকান ছিল। পরে লোকসানের কারণে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পরিবারের সহযোগিতায় একটি অটোরিকশা চালানো শুরু করেন। তিনি জানান, অটোরিকশা মেরামতের সূত্রেই সোহেল রানার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই গ্যারেজেই সোহেল কাজ করতেন। কাজের প্রয়োজনে তাদের মধ্যে পরিচয় হলেও একাধিকবার কাজ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ডলার বলেন, একদিন কাজ না করায় সোহেলকে তিনি ধমক দিয়েছিলেন। হয়তো সেই ঘটনার জেরে কিংবা বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তার নাম জড়ানো হচ্ছে। তবে কেন তাকে জড়িয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মামলায় সোহেল আর তার স্ত্রী স্বপ্না ছাড়া তৃতীয় কোনও ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির বলেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত তৃতীয় কোনও ব্যক্তির নাম আসেনি। সোহেল রানা বা তার জবানবন্দিতেও কোনও সহযোগীর উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, নতুন করে ডলারের নাম আসার বিষয়টি বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে এ ধরনের বিষয় অনুসরণ করলে মূল মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



