এনসিপির রংপুর জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব শেখ রেজওয়ানের পদত্যাগ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আদর্শ বিচ্যুতির অভিযোগ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব শেখ রেজওয়ান অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্বের গ্রুপিং এবং জুলাই বিপ্লবের আদর্শ বিচ্যুতিসহ নানা অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে তিনি দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
পদত্যাগের কারণ ও অভিযোগ
পদত্যাগের কারণ হিসেবে শেখ রেজওয়ান সাংবাদিকদের জানান, এনসিপির রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি অভিযোগ করেন, “কমিটির নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের আনা হয়েছে যারা মূলত জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যারা বিপ্লবের আদর্শ ধারণ করেন না, তাদের দিয়ে এই দলের নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা কমিটির সদস্য সচিব এরশাদ হোসেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় তাকে পদ থেকে সরানোর পর এক জটিলতা তৈরি হয়। নিয়ম অনুযায়ী পদটি তার পাওয়ার কথা থাকলেও গ্রুপিংয়ের কারণে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে দলের উত্তরাঞ্চলীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনা ও আসাদুল্লাহ আল গালিবের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব চলছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
দলীয় শৃঙ্খলা ও গ্রুপিংয়ের অভিযোগ
শেখ রেজওয়ান জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল মামুনের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দলের মধ্যে গ্রুপিং ও বিভাজন চরম আকার ধারণ করেছে। রংপুরে এনসিপির কোনও দলীয় শৃঙ্খলা নেই। ভিনদলের অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২ ডিসেম্বর জাতীয় ছাত্র সমাজের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আল মামুনকে আহ্বায়ক করে রংপুর জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সদস্য সচিব সরকারি শিক্ষক হওয়ায় বিতর্কের মুখে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা জানান, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে রংপুরে এনসিপির কোনও স্থায়ী অফিস নেই; বর্তমানে নেতাদের ‘মুখে মুখেই’ চলছে দলীয় কার্যক্রম।
পদত্যাগের প্রভাব ও অতীত ঘটনা
তার এই পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়। গুঞ্জন উঠেছে, ঈদের পর দলটির আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা পদত্যাগ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসে মিঠাপুকুর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ফোনে শাসিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন এই শেখ রেজওয়ান। সে সময় ৫ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড ভাইরাল হয়, যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়— “আমি শেখ রেজওয়ান বলছি। এটা আওয়ামী লীগের নয়, জামায়াত-বিএনপির শেখ রেজওয়ান। এই সরকারের আমলে কোনও সাজানো মামলা হলে ওসি-এসআই সবগুলাকে খায়া ফেলবো।”
পরবর্তীতে ওই ঘটনার জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন এবং নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠনের নেতা হিসেবে দাবি করেন। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল যে, শেখ রেজওয়ান নামে তাদের কোনও সংগঠক বা নেতাকর্মী মিঠাপুকুরে নেই।
নেতাদের প্রতিক্রিয়া
শেখ রেজওয়ানের পদত্যাগ এবং গ্রুপিংয়ের বিষয়ে জানতে এনসিপির রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই পদত্যাগ দলটির অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।



