রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের সংঘর্ষ: মোটরসাইকেল কেনাবেচা নিয়ে দ্বন্দ্ব
রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের সংঘর্ষ

রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের সংঘর্ষ: মোটরসাইকেল কেনাবেচা নিয়ে দ্বন্দ্ব

রাজশাহী নগরীতে জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) রাত পৌনে ৮টার দিকে হেতেমখাঁ জাদুঘর মোড়ে এ ঘটনা সংঘটিত হয়। একপক্ষের অভিযোগ, অন্যপক্ষকে চাঁদা তুলে না দেওয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে রাজশাহী মহানগর জামায়াত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ দাবি উড়িয়ে দিয়েছে, যাতে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংঘর্ষের পটভূমি ও আহতের ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে একটি মোটরসাইকেল কেনা-বেচাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং পরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের মাধ্যমে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন, যদিও সুনির্দিষ্ট আহতের সংখ্যা জানা যায়নি। সংঘর্ষের সময় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

পক্ষগুলোর বক্তব্য ও অভিযোগ

স্থানীয় জামায়াতকর্মী মমিনুল ইসলাম মোনা দাবি করেন, রাশেদুল হাসান পারভেজ তার একটি মোটরসাইকেল নিয়ে টাকা দিচ্ছিলেন না। টাকা চাওয়ার কারণে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাশেদুল হাসান এলাকায় চাঁদাবাজি করেন এবং তাকে চাঁদা তুলে না দেওয়ার কারণে আগে থেকেই ক্ষিপ্ত ছিলেন। এ কারণে হামলা চালিয়ে মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, রাশেদুল হাসান পারভেজের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়, তাই তার সরাসরি বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে চাঁদাবাজির কোনও ঘটনা নেই, বরং ওই দুই কর্মীর মধ্যে মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয় ছিল, যা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের হস্তক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান জানান, মোটরসাইকেল কেনা-বেচা নিয়ে দুই ব্যক্তি ও তাদের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ সংঘর্ষকে আরও বিস্তৃত হওয়া থেকে রোধ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিক অবস্থান

জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর কেউ চাঁদাবাজি করে না এবং কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেবে না। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী সর্বদা সোচ্চার এবং তাদের অবস্থান কঠোর। এই বিবৃতি দিয়ে সংগঠনটি ঘটনাটিকে একটি ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব হিসেবে চিহ্নিত করতে চেয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুলভাবে প্রচারিত হচ্ছে।

এ ঘটনা রাজশাহীতে স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যদিও পুলিশের মতে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরদারি বাড়িয়েছে।