সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য ভাইরাল: এনসিপি নেতাদের তীব্র সমালোচনা
সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য ভাইরাল, এনসিপির সমালোচনা

সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য ভাইরাল: এনসিপি নেতাদের তীব্র সমালোচনা

রাজধানীর বিজয় সরণিতে অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁয় রোববার ন্যাশনাল প্রফেশনাল এলায়েন্স আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের বাস্তবায়ন না হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়ী করেন।

আখতার হোসেনের বক্তব্য

আখতার হোসেন বলেন, "সংবিধান সংস্কার পরিষদের বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে প্রধানতম দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাংবিধানিকতার দোহাই দিয়ে সংস্কার আটকে রাখা হলে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরকারি অফিসে থাকা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, "মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে লেখা হয়েছে, যা জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে সম্ভব হয়েছে। একইভাবে সংবিধানে সংস্কার পরিষদ না থাকলেও জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতেই তা করতে হবে।"

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মন্তব্য

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "শেখ হাসিনার বিচার ও সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন করলে একটি দল উটপাখির মতো মাথা বালুর মধ্যে গুজে দেয়।" তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল নির্বাচনের কথা বলে সংস্কার এড়িয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, "আমরা বলেছিলাম খাওদাও লুটপাটের জন্য নির্বাচনের কথা বলছে, তারা বলতো নির্বাচনের পর সংস্কার হবে। এখন তারা বলছে সংবিধানে লেখা নেই।"

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, "যারা সংস্কার চায় না, তাদের ওয়াশআউট করে ২০২৯ সালে একটি নির্বাচন হবে এবং সংস্কারপন্থীদের মাধ্যমে সংসদ গঠিত হবে।" তিনি ছাত্রদল-যুবদলের সন্ত্রাসীদের সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার কারণে কেউ অসুস্থ হয় না।

সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য ভাইরাল

অনুষ্ঠানে আলোচিত হয় যে, সালাহউদ্দিন আহমেদ ঐক্যমত্য কমিশনে বলেছিলেন, সংসদ সদস্যরা জুলাই সনদের শর্তগুলো মানতে বাধ্য থাকবেন। কিন্তু এখন তিনি নিজেই সংসদে তা মান্য করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। তার সেই সময়ের বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।

অন্যান্য বক্তারা

ন্যাশনাল প্রফেশনাল এলায়েন্সের আহ্বায়ক নাভিদ নওরোজ শাহ ইফতারে স্বাগত বক্তব্য দেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক প্রমুখ।

এই ইফতার অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিক সংলাপ ও সমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে, যেখানে সংবিধান সংস্কার, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক উঠে এসেছে।