এবি পার্টির ইফতার মাহফিলে মঞ্জুর বিএনপি সমালোচনা
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে এবি পার্টির দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বিএনপির রাজনৈতিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জাতীয় সরকার গঠনের পূর্বের অঙ্গীকার থেকে সরে যাচ্ছে এবং তাদের একদলীয় নীতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
মঞ্জুর বক্তব্যে বিএনপির অঙ্গীকার ভঙ্গের অভিযোগ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, "বিএনপি পূর্বে ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা ক্ষমতায় গেলে একটি জাতীয় সরকার গঠন করবে এবং সকল রাজনৈতিক পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। জন-আকাঙ্ক্ষা বুকে ধারণ করে তারা বলেছিল 'সবার আগে বাংলাদেশ' হবে তাদের মূলনীতি। কিন্তু বাস্তবে ক্ষমতার রাজনীতিতে এসে তারা তাদের সেই রাজনৈতিক অঙ্গীকার থেকে সরে যাচ্ছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "ঐক্য ও জাতীয় সরকারের কথা বললেও শুরুতেই বিএনপির একদলীয় নীতি স্পষ্ট। কোনো সরকারের একদলীয় নীতি দেশের জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা এখন সবচেয়ে জরুরি।"
আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
দলের দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা শাখার নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন:
- এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল
- রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল বাসেত মারজান
- সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক
- জামায়াতে ইসলামীর দিনাজপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মুহাদ্দিস এনামুল হক
- ছাত্রশিবিরের দিনাজপুর জেলা সভাপতি আবুল কালাম আজাদ
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
এই ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মজিবুর রহমান মঞ্জুর বক্তব্যে বিএনপির নীতির সমালোচনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের আলোচনা সভাগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিনিময় ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি এবি পার্টির স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনেরও প্রতিফলন ঘটায়।
