মাগুরার মহম্মদপুরে ভিজিএফ চালে রাজনৈতিক ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হতদরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চালে ৪০ শতাংশ রাজনৈতিক ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি দলের নেতাকর্মীদের জন্য এই ভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত দুস্থদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বরাদ্দের পরিমাণ ও অভিযোগের বিস্তার
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহম্মদপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৪৩ হাজার ৫৬৩ জন হতদরিদ্র, গরিব ও দুস্থ পরিবারের জন্য সরকারিভাবে ৪৩৫ দশমিক ৩৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই বরাদ্দের প্রায় ৪০ শতাংশ ভিজিএফ কার্ড সরকারি দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তালিকা করতে চাপ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, অতীতে ভিজিএফ কার্ড বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তা অনেকটাই গোপনে হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রকাশ্যেই ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ উঠছে, যার ফলে প্রকৃত দরিদ্র ও দুস্থ মানুষ এই গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য ও অস্বীকার
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্যানেল চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, উপজেলা বিএনপির নেতাদের চাপের মুখে প্রায় ৪০ শতাংশ ভিজিএফ কার্ড তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের দিতে হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মুধা। তিনি বলেন, "প্রতিটি ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ড বিতরণের জন্য একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটিতে সংসদ সদস্যের দুজন করে প্রতিনিধি থাকেন। তারা তালিকা প্রণয়নে ইউনিয়ন পরিষদকে সহযোগিতা করেন। এখানে কোনো ধরনের ভাগবাটোয়ারার সুযোগ নেই।"
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, "ঈদের ভিজিএফ কার্ড কোটার ভিত্তিতে বণ্টনের কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃত গরিব ও দুস্থ মানুষের মধ্যেই এই সহায়তা দেওয়ার নিয়ম। রাজনৈতিক দলের ৪০ শতাংশ ভাগের বিষয়টি আমার জানা নেই।"
প্রতিক্রিয়া ও অনুসন্ধানের চেষ্টা
এদিকে, এই বিতর্কিত বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহানুর জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, এবং অনেকেই দাবি করছেন যে ভিজিএফের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।
মহম্মদপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই অনিয়মের তদন্ত ও দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত দরিদ্ররা তাদের প্রাপ্য সহায়তা পেতে পারেন।
