জামায়াত আমিরের চিঠি প্রকাশে প্রস্তুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ফোনালাপের দাবি অস্বীকার
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের আলোচিত চিঠিটি প্রকাশ করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বুধবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দেয়, যেখানে চিঠি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
চিঠির পটভূমি ও বিষয়বস্তু
শফিকুর রহমান সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার প্যাডে নিজের স্বাক্ষর করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। এই চিঠিতে তিনি তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান প্রথমে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এবং পরে সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেন। চিঠিটি বিরোধীদলীয় নেতার জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা ছিল এবং এর নিচে কেবল শফিকুর রহমানের স্বাক্ষর বিদ্যমান ছিল।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে স্পষ্টীকরণ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, চিঠিতে মাহমুদুল হাসানকে 'বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা' হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ড. হাসানের দক্ষতা, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করে দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে একত্রে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাঁকে উল্লিখিত পদে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াতের কারও সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনে কোনো কথোপকথন হয়নি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফোনালাপের বিষয়টি উল্লেখ করা হলে, মন্ত্রণালয় তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে এবং এ ধরনের কোনো যোগাযোগ আদৌ সংঘটিত হয়নি বলে জানায়।
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ
চিঠিটি নিয়ে প্রথম আলোয় 'পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের উপদেষ্টার পদায়ন চান বিরোধীদলীয় নেতা' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। এরপর জামায়াত এক ব্যাখ্যায় জানায় যে, উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান জামায়াতের আমিরের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে চিঠিতে মন্ত্রীর পদমর্যাদা-সংক্রান্ত অংশটি যুক্ত করেছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পর মাহমুদুল হাসানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান লিখিতভাবে সম্মতি প্রদান করলে চিঠিটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে মন্ত্রণালয় চিঠি সংক্রান্ত সকল প্রকার গুজব ও বিভ্রান্তি দূর করতে চায় বলে মনে করা হচ্ছে।
