সংসদে যারা রয়েছেন, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করেন না, বরং তা ধারণ করেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানোর প্রস্তাব রেখে তিনি এ কথা বলেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ ব্যবহারের প্রস্তাব
পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী বলেন, গতকাল মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে। এখানে বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্যেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন। তিনি বলেন, ‘সংসদে আমরা যারা আছি, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করি না, ধারণ করি। এখানে যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা আছেন, তাদের নামের আগে যদি “বীর মুক্তিযোদ্ধা” বলা হয় এবং তারপরে নাম উল্লেখ করা হয়, তাহলে নতুন প্রজন্মও জানতে পারবে। মুক্তিযোদ্ধাদেরও সম্মান দেওয়া হবে। সংসদের ভেতরে যদি আমরা এটা চালু করি, তাহলে সংসদের বাইরেও আমরা এটা বলতে পারবো।’
স্পিকারের বক্তব্য
এ সময় স্পিকার বলেন, ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা সংসদ অনুমোদন দিয়েছে। এখন মুক্তিযোদ্ধা তিনিই যিনি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন; বাকিরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা সহায়ক—এই সংজ্ঞা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। তিনি জানান, এখানে কতজন অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, তা তার জানা নেই। তবে সাধারণত সংসদে আসনভিত্তিক পরিচয় দিয়েই আলাপ করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় এখানে উহ্য থাকে। তবুও যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে কেউ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞার মধ্যে পড়েন, তাহলে সেভাবে তাকে উল্লেখ করার চেষ্টা করা হবে।
পূর্ববর্তী বিধান ও পরিবর্তন
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সব ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ শব্দটি ব্যবহার করে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করার বিধান করা হয়। তবে ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম (বীর প্রতীক) ‘বীর’ শব্দ ব্যবহার বাতিলের প্রস্তাব দেন।



