আওয়ামী লীগ নেতার হুমকি: রাজধানীর ব্যবসায়ীকে রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ
রাজধানীর বাংলামোটরের ব্যবসায়ী মো. আব্বাস উদ্দিন বিটুকে রাজনৈতিক ভুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ রাজ্জাক আলী। এ ঘটনায় বুধবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ব্যবসায়ী বিটু। অভিযোগ অনুসারে, বাংলামোটরের হ্যাপি রহমান প্লাজা ভবনের বাণিজ্যিক স্পেস ক্রয় ও মালিকানা নিয়ে সৈয়দ রাজ্জাক আলীর সাথে বিটুর বিরোধ চলমান রয়েছে।
অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ
অভিযোগে বিটু উল্লেখ করেন, রাজ্জাক আলীর হ্যাপি রহমান প্লাজায় বৈধ কোনো মালিকানা নেই; কিন্তু জালিয়াতির মাধ্যমে ভবনটির বিভিন্ন জায়গায় ফ্লোর স্পেস বিক্রি করেছেন এবং এখনও বিক্রির পাঁয়তারা করছেন। তিনি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই ভবন দখলে রেখেছেন। ভবনের ছাদে রাজউক নকশার বহিঃর্ভূতভাবে স্পেস নির্মাণ করে আবু হানিফের কাছে ২ হাজার ৬১৫ বর্গফুটের বেশি বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি করেন। এছাড়াও তিনি ছাদে তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী রাখার জন্য পৃথক একটি স্থাপনা নির্মাণ করেন, যেখানে আনুমানিক ৩০-৩৫ জন অবস্থান করেন।
ভবনের বেইজমেন্টের পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে গোডাউন নির্মাণসহ নানাবিধ অবৈধ ও নিয়মবহিঃর্ভূত কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত তিনি। বিটুর মতে, তার এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভবনের ৩য় তলায় অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তি অত্যন্ত নোংরা ভাষায় গালিগালাজসহ তার ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জখমের হুমকি দেন। তারা সরাসরি বলেন, পুনরায় রাজ্জাক সাহেবের পথের কাঁটা হলে তারা বিটু এবং তার পরিবারকে দেখে নেবেন। এছাড়াও রাজ্জাক আলী বিভিন্ন রাজনৈতিক ভুয়া মামলায় বিটুকে জড়িয়ে তাকে হেনস্তা করার হুমকি দেন।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
জানতে চাইলে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহমুদুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এই ঘটনা রাজধানীর ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যেখানে রাজনৈতিক হুমকি ও ভুয়া মামলার আশঙ্কা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। বিটুর মতো ব্যবসায়ীরা আইনি সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন, যখন পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
