এনসিপি নেতার তীব্র প্রশ্ন: আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা, কিন্তু সংস্কার ও বিচার কোথায়?
দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দেওয়ার খবর নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে তিনি জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে হতাহতদের ঘটনায় দায়ীদের বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়েও জনসমক্ষে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে সরব নেতা
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। পোস্টটি তিনি কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহকে ট্যাগ করে লেখেন। সেখানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পুনরায় দৃশ্যমান হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে দ্রুত সংস্কার ও বিচারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পোস্টে বলা হয়, "হাসনাত আবদুল্লাহ কই? লীগ তো দোকান খোলা শুরু করছে। নির্বাচন তো হইলো, এইবার সংস্কার আর বিচার হইব্বে।" তার ভাষায়, আওয়ামী লীগ আবার প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করছে—এ অবস্থায় সংস্কার ও বিচার কতদূর এগোলো, সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা প্রয়োজন।
পটভূমি: অভ্যুত্থান ও সরকার পরিবর্তন
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন জোট। এই নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে জয় পান হাসনাত আবদুল্লাহ। অন্যদিকে ঢাকার একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
নেতার উদ্বেগ ও দাবি
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই পোস্টে প্রকাশিত হয়েছে:
- আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ।
- জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে হতাহতদের বিচারের দাবি জোরালো করা।
- রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া।
- নির্বাচিত প্রতিনিধি হাসনাত আবদুল্লাহকে সরাসরি প্রশ্ন করা।
এনসিপি নেতার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি সরকারের সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়ার গতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সংশয়কেই প্রতিফলিত করছে।
