জামায়াতে ইসলামীর নতুন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন: শিশির মনিরসহ ৮৮ সদস্য
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার একটি ভার্চুয়াল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে ৮৮ সদস্যের একটি নতুন কর্মপরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা আগামী দুই বছর ধরে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
শিশির মনিরের মনোনয়ন: একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন
নতুন গঠিত এই কর্মপরিষদে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তার এই মনোনয়ন দলের আইনি ও রাজনৈতিক কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিশির মনিরের মতো অভিজ্ঞ আইনজীবীর অন্তর্ভুক্তি জামায়াতে ইসলামীর ভবিষ্যৎ কৌশল ও আইনি লড়াইয়ে শক্তি যোগাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কর্মপরিষদের অন্যান্য সদস্যগণ
কর্মপরিষদে শিশির মনির ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও পেশার নেতৃবৃন্দ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
- মাহফুজুর রহমান (খুলনা)
- মাওলানা এ টি এম আজম খান
- অধ্যাপক জামাল উদ্দিন
- আব্দুস সবুর ফকির
- অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল
- অধ্যাপক নজরুল ইসলাম (পাবনা)
- ড. আলমগীর বিশ্বাস
- দেলাওয়ার হোসাইন
- অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান
- মাহফুজুর রহমান (ঢাকা)
- জাহিদুর রহমান
- আবিদুর রহমান সোহেল
এছাড়াও, কর্মপরিষদে সংসদ সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় নেতা ও আইনজীবীদের একটি বিশাল তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এমপি, এবং অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সাবেক এমপির মতো ব্যক্তিত্বরা উল্লেখযোগ্য।
গঠন প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই কর্মপরিষদ গঠন জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভার্চুয়াল অধিবেশনের মাধ্যমে সদস্যদের নির্বাচন ও মনোনয়ন সম্পন্ন হয়েছে, যা বর্তমান প্রযুক্তিগত যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার প্রতিফলন। নতুন এই কমিটি দলের সংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, রাজনৈতিক কৌশল পুনর্বিন্যাস, এবং সামাজিক কার্যক্রম জোরদার করার দায়িত্ব পালন করবে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই বহুমুখী ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মপরিষদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দলের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে। আগামী দিনগুলোতে তারা দলীয় নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
