বিএনপির নতুন সরকারের যাত্রা শুরু, ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা শপথ নিল
দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নতুন যাত্রার সূচনা করেছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন, যেখানে জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি মধ্যম সারি ও নবীনদের বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথ পড়ান, যা বহুল প্রত্যাশিত নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা করে।
মন্ত্রিসভায় তিন প্রজন্মের নেতাদের মিশেল
নতুন মন্ত্রিসভার তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাষ্ট্র পরিচালনায় তিন প্রজন্মের নেতাদের মিশেলে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। অনেকে জীবনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন, যেখানে নতুন মুখের সংখ্যাই বেশি। মন্ত্রিসভায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ শপথ নিয়েছেন। তবে স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খান নতুন মন্ত্রিসভায় নেই, যাদের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদে নিয়োগের আলোচনা রয়েছে।
উপদেষ্টা নিয়োগ ও আলোচিত সংযোজন
মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খানসহ ১০ জনকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন খলিলুর রহমান, যিনি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো উপদেষ্টা পরবর্তী সরকারে দায়িত্ব পাননি, কিন্তু তারেক রহমানের সঙ্গে ইউনূসের লন্ডন বৈঠকের পর পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়। খলিলুর রহমানকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বিএনপির আগের আপত্তি সত্ত্বেও ঘটেছে।
নতুন মুখের ভিড় ও দায়িত্ব বণ্টন
মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন অতীতে মন্ত্রী ছিলেন এবং ৯ জন প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হয়েছেন। নতুন মুখের মধ্যে রয়েছেন এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল আওয়াল মিন্টু, জহির উদ্দিন স্বপন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন, এবং শেখ রবিউল আলম, যাকে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট হিসেবে আমিনুল হক এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের নেতারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
জনগণের প্রত্যাশা ও বিশ্লেষণ
শপথ অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অসংখ্য মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মানিকগঞ্জ থেকে আসা শরিফুল ইসলামের মতো দর্শকরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন, আশা করছেন তারেক রহমান বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন-পুরোনোর মিশেলে গঠিত মন্ত্রিসভার সাফল্য নির্ভর করবে দায়িত্ব বণ্টন, নীতিনির্ধারণ ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের ওপর। বিএনপি সর্বশেষ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল, এবং ২০ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে, যেখানে নতুন মুখেরা প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন।
