রাকসু নির্বাচনের প্রচারণায় পরিচয়, প্রেম ও বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ রাবির দুই শিক্ষার্থী
রাকসু নির্বাচনে পরিচয়, প্রেম ও বিয়েতে রাবির দুই শিক্ষার্থী

রাকসু নির্বাচনের প্রচারণায় পরিচয়, প্রেম ও বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ রাবির দুই শিক্ষার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাকসু নির্বাচনের প্রচারণা শুধু রাজনৈতিক সক্রিয়তাই নয়, বরং এক সুন্দর প্রেম ও দাম্পত্য জীবনের সূচনাও হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী রিদুয়ানুল হক ইমন ও মুসলিমা রাকসু নির্বাচনের প্রচারণার সময় পরিচিত হন, যা ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, প্রেম এবং অবশেষে বিয়ের বন্ধনে রূপ নেয়। চার মাসের সম্পর্কের পর গত ৭ এপ্রিল উভয় পরিবারের সম্মতিতে রাজশাহীর বিনোদপুর কাজী অফিসে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও প্রেমের গল্প

ইমন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। অন্যদিকে মুসলিমা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তার বাড়ি বাগেরহাটে। রাকসু নির্বাচনের প্রচারণার সময় ইমনের সঙ্গে মুসলিমার প্রথম দেখা হয়, যা ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব ও প্রেমে রূপ নেয়। কয়েক মাস একসঙ্গে সময় কাটানোর পর তাদের সম্পর্ক গভীর হয় এবং একসময় মুসলিমা অসুস্থ হলে ইমন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকেই বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে।

প্রেমের সূত্রপাত সম্পর্কে ইমন বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে আমি মমতাজ উদ্দীন কলাভবনের সামনে প্রচারণা করতে যাই। তখন প্রথম দেখাতেই তাকে ভালো লাগে। তার সঙ্গে থাকা বান্ধবীদের মধ্যে একজনকে আমি চিনতাম। কিছুদিন পর সে আমাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়। এরপর আমি তাকে মেসেজ দিই এবং টুকটাক কথা হয়। কিছুদিন পর জানতে পারি, সে শহরের তালাইমারি এলাকায় থাকে। এরপর তাকে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাই। এভাবে কয়েকদিন একসঙ্গে চা খাওয়া ও আড্ডার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের সম্মতি ও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা

প্রথমে পরিবার বিয়েতে রাজি না থাকলেও, দুজনের বোঝানোর পর উভয় পরিবার সম্মতি দেয়। ইমন জানান, ‘শুরুর দিকে পরিবার রাজি ছিল না। আমরা এখনো শিক্ষার্থী হওয়ায় সবাই চাইছিল পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে হোক। কিন্তু আমরা দুজনই নিজেদের পরিবারকে বুঝিয়ে রাজি করাই। পরে উভয় পরিবার সম্মতি দেয়।’ পারিবারিকভাবে বিষয়টি কীভাবে জানাজানি হয়—এমন প্রশ্নের জবাবে ইমন বলেন, ‘একবার সে অসুস্থ হলে আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে তার ভাই আমাকে কল দেন। সেখান থেকেই তার ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। আমাদের পরিকল্পনা ছিল পরে বিয়ে করার। কিন্তু বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হলে রাজশাহীতে উভয় পরিবারের সদস্যরা এসে কথা বলেন। এরপর ৭ এপ্রিল বিনোদপুর কাজী অফিসে আমাদের বিয়ে হয়। পরে বিয়ের অনুষ্ঠান করে ১৭ এপ্রিল সবাইকে জানানো হয়।’

বিয়ের অনুভূতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিয়ের অনুভূতি সম্পর্কে মুসলিমা বলেন, ‘সবকিছু যেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে গেল, কিন্তু অনুভূতিটা খুবই আন্তরিক ও গভীর। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ধীরে ধীরে ভালো লাগা; সব মিলিয়ে ইমনকে জীবনের সঙ্গী হিসেবে পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। পরিবারের সম্মতিতে বিয়েটা হওয়ায় আমরা আরও স্বস্তি পেয়েছি। এখন আমাদের লক্ষ্য পড়াশোনা শেষ করে একসঙ্গে ভালো কিছু করা এবং সুন্দরভাবে জীবনটা গুছিয়ে নেওয়া।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইমন জানান, তারা একসঙ্গে ভালো কিছু করতে চান। পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান এবং দেশে বা বিদেশে ভালো চাকরি করার ইচ্ছা রয়েছে তাদের। তাদের এই গল্পটি সর্বশেষ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তারা, যা দ্রুতই ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

রাকসু নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। সে নির্বাচনে ছাত্র অধিকার পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন রিদুয়ানুল হক ইমন। এই নির্বাচনী প্রচারণাই দুই তরুণ শিক্ষার্থীর জীবনে প্রেম ও বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে, যা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক আলোচিত ও অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প হিসেবে স্থান পেয়েছে।