দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত ও আর্থিকভাবে সচ্ছল। প্রায় ৬৫ শতাংশ কোটিপতি এবং ৬৩ শতাংশের বেশি স্নাতকোত্তর বা উচ্চতর ডিগ্রি রয়েছে।
টিআইবির বিশ্লেষণ
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ৪৯ জন প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। সংরক্ষিত আসনে মনোনীতদের মধ্যে সম্পদ ও শিক্ষার উচ্চ মাত্রা দেখা গেছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
সংরক্ষিত আসনের মহিলা প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের তুলনায় বেশি। প্রায় ৬৩.৩ শতাংশ মহিলা প্রার্থী স্নাতকোত্তর বা উচ্চতর ডিগ্রিধারী, যেখানে সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে এই হার ৫০.৭ শতাংশ। বর্তমান সংসদের মোট এমপিদের (সরাসরি ও সংরক্ষিত) ৫২.৬৩ শতাংশ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। মহিলা প্রার্থীদের মধ্যে ২৭ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী, এবং অল্প সংখ্যক উচ্চ মাধ্যমিক বা মাধ্যমিক পাস।
আর্থিক অবস্থা
প্রার্থীদের মধ্যে সম্পদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ৪৯ জনের মধ্যে ৩২ জন (৬৫.৩১ শতাংশ) ঘোষিত অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের ভিত্তিতে কোটিপতি। দলগতভাবে বিএনপির ৭২.২২ শতাংশ এবং জামায়াত-ই-ইসলামীর ৫৬ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি। জাগপার একমাত্র প্রার্থীও কোটিপতি।
পেশাগত পরিচিতি
পেশাগত দিক থেকে আইনজীবী ২৬.৫ শতাংশ নিয়ে সর্বোচ্চ, তারপর ব্যবসায়ী ২২.৫ শতাংশ। গৃহিণী ১২.২ শতাংশ, শিক্ষক ১০.২ শতাংশ, এবং সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ৮.২ শতাংশ। চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশার সংখ্যা কম।
সম্পদ ও ঋণ
কোটিপতি প্রার্থীদের মোট স্থাবর সম্পদ ৬৬ কোটি টাকার বেশি, অস্থাবর সম্পদ ৭৮ কোটি টাকা, মোট ১৫২ কোটি টাকা। অন্তত তিন প্রার্থী ১০০ ভরি以上的 স্বর্ণের অলঙ্কারের মালিক, একজন ৫০২ ভরি ঘোষণা করেছেন। উচ্চ সম্পদের মালিক হলেও প্রায় ২০.৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত, যা সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে ৫০.৮৪ শতাংশের তুলনায় কম।
বয়স ও দলীয় বণ্টন
প্রার্থীদের গড় বয়স ৫২.১৭ বছর, সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪৫-৫৪ বছর বয়সী। বিএনপি সর্বোচ্চ ৩৬ জন প্রার্থী দিয়েছে, জামায়াত ৯ জন, এবং কয়েকটি ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একজন করে দিয়েছে।
টিআইবি মনে করে, শিক্ষিত ও পেশাগতভাবে বৈচিত্র্যময় নারীর উপস্থিতি ইতিবাচক হলেও সম্পদ ও নির্দিষ্ট পেশার আধিপত্য প্রতিনিধিত্ব ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।



