আওয়ামী লীগ বিতর্কে বিএনপি-জামায়াতের অনিরাপত্তাবোধ: মাহফুজ আলম
আওয়ামী লীগ বিতর্কে বিএনপি-জামায়াতের অনিরাপত্তাবোধ

আওয়ামী লীগকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান বিতর্কের পেছনে বিএনপি ও জামায়াতের ‘অনিরাপত্তাবোধ’ কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনিরাপত্তার বহিঃপ্রকাশ

পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বর্তমানে যা চলছে, তা মূলত দেশের দুই বড় রাজনৈতিক শক্তির ‘ইনসিকিউরিটি’ বা অনিরাপত্তার বহিঃপ্রকাশ। বিএনপি ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ভুলতে পারেনি, অন্যদিকে জামায়াতের মধ্যে আদর্শিক শত্রুতা ও সহিংসতার আশঙ্কা কাজ করছে, যার শিকড় নব্বইয়ের দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিহিত।

তরুণদের ঝুঁকি

মাহফুজ আলমের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর এই অবস্থানের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন সেই তরুণরা, যারা আওয়ামী লীগের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালে এ প্রজন্মকে মূল্য দিতে হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তরুণদের প্রতি আহ্বান

তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র রাজনৈতিক বিভাজন ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর লক্ষ্য সামনে রাখতে হবে। শুধু রাজনীতিতে নয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংগঠন, সংহতি ও নেতৃত্ব তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অতীতের ব্যবহার

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে তরুণদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তার দাবি, বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উসকানি ও একপাক্ষিক মতাদর্শিক বয়ানের কারণে বহু তরুণের রাজনৈতিক শক্তি ক্ষয় হয়েছে। মাহফুজ আলম বলেন, বর্তমান সংগ্রাম মূলত একটি প্রজন্মের সংগ্রাম। আগের প্রজন্মের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিজেদেরই নির্ধারণ করতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঐক্যের আহ্বান

মতাদর্শগত বিতর্ক থাকলেও ব্যক্তি আক্রমণ ও বিদ্বেষের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হতে পারে, তবে ‘জুলাই’ ও ‘অ্যান্টি-ফ্যাসিজম’কে কেন্দ্র করেই ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা নিশ্চিত ঝুঁকি জেনেও মাঠে নেমেছিলেন। সেই সাহসের সঙ্গে সাংগঠনিক শক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যুক্ত করতে পারলে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসতে পারবে না।