বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, জাতীয় সংসদে মন্ত্রীরা অধিবেশন চলাকালে মাসে একবার কথা বললেও তিনি প্রতিদিন দু-তিনবার কথা বলতে পারেন। তাই তার পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি। রোববার (৩১ মে) চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পদমর্যাদা ও প্রটোকল নিয়ে বক্তব্য
তাহের বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে তার অফিসিয়াল স্ট্যাটাস প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আজকে আমার গাড়িতে পতাকা আছে। পতাকা নিয়েই আমি ঢাকা থেকে এসেছি। আমার বাসা থেকে এ পর্যন্ত আমি পুলিশ প্রটোকলে এসেছি। তাহলে প্রটোকল কারা পায়? মন্ত্রীরাই পায়।' তিনি এটাকে গর্বের বিষয় না বলে উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলে থেকেও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পাওয়া গৌরবের। তিনি বলেন, 'আমরা বাংলাদেশে এখন স্ট্রং ভূমিকায় আছি। বিরোধী দলে থেকেও আমার গাড়িতে পতাকা আছে।'
প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুত্ব
তিনি আরও বলেন, চৌদ্দগ্রামের বিএনপির কিছু নেতার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী তার মূল্যায়ন করেন এবং চৌদ্দগ্রামে বেশি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বলেছেন।
ভবিষ্যৎ নির্বাচন ও উন্নয়ন
আগামীতে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসবে বলে আশা প্রকাশ করে তাহের বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাদের চেয়ে ১০ শতাংশ ভোট বেশি পেলেও জামায়াত এককভাবে ৬৮টি ও জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পেয়েছে। প্রধান বিরোধীদল মানে আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে।
নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার থাকাকালে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছেন। নির্বাচনের মাত্র তিন মাসের মধ্যে আরও ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, 'সবে সরকারের তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। যদি বিএনপি পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে যায়, তাহলে এই বরাদ্দ আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।'
কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসা নির্মূলের ঘোষণা
তাহের বলেন, চৌদ্দগ্রামের মৌলিক সমস্যা কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসা। তিনি বলেন, 'চৌদ্দগ্রামে এই দুটোর স্থান হবে না। কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের ছয় মাস সময় দিলাম। আপনারা অন্য কোনো ব্যবসা খুঁজেন। ছয় মাসের পরেও যদি এই রাস্তায় থাকেন, তাহলে বুঝা গেল, আপনারা ইচ্ছে করেই এই রাস্তায় আছেন।' তিনি ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি উল্লেখ করে বলেন, 'কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার জন্য আপনারা ঘর থেকে বের হবেন কিনা? বের হলে, সমাজ থেকে অপরাধ কমে যাবে। আমার নেতৃত্বেই কিশোর গ্যাং ও মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে। তাদের আর ছাড় নয়।'
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মী
উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের পরিচালনায় চৌদ্দগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জামায়াতের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা সাবেক আমির আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা মহানগরী সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টারের এমডি ডা. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, ইসলামিক চিন্তাবিদ ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাবেক আমির সাহাব উদ্দিন, সাবেক সেক্রেটারি শাহ মো. মিজানুর রহমান, পৌরসভা আমির মাওলানা ইব্রাহীম, আবুল কাশেম, আবুল খায়ের, মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, রুহুল আমিন, মমিনুল ইসলাম, আব্দুস সোবহান, ইকবাল হোসেন মজুমদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সভাপতি শাহজালাল, উপজেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, পৌরসভা জামায়াতের নায়েবে আমির কাজী ইয়াছিন, পৌরসভা সেক্রেটারি মোশাররফ হোসাইন ওপেল, শিবিরের দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম মোল্লা, উপজেলা সদর সভাপতি নাছির মিয়াজী। এ সময় চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার তেরো ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।



