জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, অসময়ে যদি জিয়াউর রহমানকে ঘাতকরা হত্যা না করতো, তাহলে বাংলাদেশ আজ অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্রে পরিণত হতো। দেশবাসীর যেসব সমস্যা রয়েছে, সেসব সমস্যার অনেকটাই তিনি সমাধান করতে সক্ষম হতেন।
শনিবার ভোলা সফরে স্পিকারের বক্তব্য
শনিবার (৩০ মে) চার দিনের ভোলা সফরের শেষ দিন সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আজকের এই দিনে শহীদ জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। শহীদ জিয়া আজ আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তার আদর্শ অনুসরণ করে বিএনপি এবং অন্য সমমনা রাজনৈতিক দলসমূহ বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আশাবাদ
স্পিকার বলেন, আশা করি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাংলাদেশে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আমরা সবাই জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবো। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে আমাদের নেতা তারেক রহমান তিনিও অত্যন্ত অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং পিতা-মাতার আদর্শ অনুসরণ করে বাংলাদেশকে উন্নতির পথে পরিচালিত করতে সক্ষম হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তুলে ধরে স্পিকার আরও বলেন, আজকে তিনি নেই কিন্তু তার জাতীয়তাবাদী আদর্শ বাংলাদেশকে পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল চারবার জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। বিগত ১৬ বছর অনেক অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছেন বিএনপির তৎকালীন চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়া। অনেক দুঃসময় অতিক্রম করেছেন আর গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
তিনি বলেন, বেগম জিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। বাংলাদেশের বাইরেও তার রাষ্ট্রনায়কোচিত দক্ষতা ছড়িয়ে গিয়েছিল। সেজন্য মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রনায়করা ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে আল কুদস কমিটির সদস্য নির্বাচিত করেন। অর্থাৎ মুসলিম বিশ্বের মধ্যে বিবাদ মধ্যস্থতা করার জন্য জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রনায়করা বেছে নেন, এটি বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট গৌরবের। এ ছাড়া জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জন নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এ সময় ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীরসহ বিএনপি ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



