মহাখালীতে প্রেমিক হত্যা মামলায় নারী কারাগারে
মহাখালীতে প্রেমিক হত্যায় নারী কারাগারে

রাজধানীর মহাখালীতে প্রথমে স্পর্শকাতর অঙ্গ কেটে এবং পরে পেটে ছুরিকাঘাত করে প্রেমিককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট থানার প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ

মোক্তার হোসেন জানান, ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম মামুন মিয়া (৩৩)। বিউটি আক্তার (৩০) নামের ওই নারীকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারেক হাসান। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। এদিন আসামির পক্ষে কোনো জামিনের আবেদন ছিল না।

মামুনের চাচা মোকসেদ আলী ভূঁইয়া গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচ মাস আগে বাংলাদেশ রেলওয়েতে মামুনের চাকরি হয়। এক মাস আগে সেখানে যোগদান করে সে। মামুন বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গ্রামের বাড়িতে থাকে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

বনানী থানায় করা মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মামুন মিয়া ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার আসামি একই জেলার গফরগাঁও থানার নিগুয়ারী গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী। প্রায় এক বছর আগে মামুনের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা বাদীর পরিবার জানত না। ১০ জুলাই চিকিৎসার কথা বলে ঢাকা আসেন ওই নারী এবং বনানী থানার মহাখালী টিবি গেট পূর্বপাড়া এলাকার একটি বাড়ির তৃতীয় তলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরদিন সকাল ১১টার দিকে ওই বাসায় মামুন দেখা করতে গেলে বিউটি তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বেলা দেড়টার দিকে বিউটি একটি প্লাস্টিকের হাতলযুক্ত ধারালো চাকু দিয়ে মামুনের স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত করে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করেন। মামুন প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে লুটিয়ে পড়লে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিউটি একই চাকু দিয়ে মামুনের পেটের বাঁ পাশে উপর্যুপরি একাধিক আঘাত করে গুরুতর জখম করেন।

মৃত্যু ও মামলা

পরে মামুনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিনই সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আজ মামুনের চাচা বনানী থানায় একটি মামলা করেন।

আসামির স্বীকারোক্তি

তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর আবেদনে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ওই নারী এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সময় আসামি নিজেও সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে পরবর্তী সময়ে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।