চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আগস্টে পুনর্নির্ধারণ: শ্রমমন্ত্রী
চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আগস্টে পুনর্নির্ধারণ

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বৃহস্পতিবার সংসদে বলেছেন, চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আগস্টে পর্যালোচনা ও পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এটি তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের অংশ।

বেসরকারি প্রস্তাবের জবাবে মন্ত্রীর বক্তব্য

মৌলভীবাজার-৪ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের উত্থাপিত একটি বেসরকারি প্রস্তাবের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি চা শ্রমিকদের বৈধ অধিকার রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর অধীনে নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক উভয়ের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে নিয়মিত বিরতিতে চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনা ও সংশোধন করা হয়। মন্ত্রী বলেন, 'এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া

শ্রম আইনের ১৪১ ধারা অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণ করা হয়, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি, নিয়োগকর্তার আর্থিক সক্ষমতা, উৎপাদন খরচ এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। মন্ত্রী বলেন, চা শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে শুধু পর্যায়ক্রমিক মজুরি বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়, তাদের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের নেওয়া উদ্যোগ

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, চা শ্রমিকদের আবাসন সুবিধা উন্নত করা, নিরাপদ পানীয় জলের নিশ্চয়তা, স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা জালের আওতা বাড়াতে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের বৈধ অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রস্তাবের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যের উত্থাপিত জনস্বার্থ ও শ্রমিক কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব পাবে এবং সেগুলো সমাধানে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আগস্টে মজুরি পর্যালোচনা

তিনি সংসদকে জানান, চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির পরবর্তী পর্যালোচনা আগস্টে নির্ধারিত। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, চা খাতে সাধারণত প্রতি তিন বছর অন্তর ৫% হারে মজুরি সংশোধন করা হয় এবং মজুরি বোর্ড আগামী মাসে সর্বশেষ সংশোধন বিবেচনায় সভা করবে। তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন, চা শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য অধিকার পান তা নিশ্চিতে সরকার প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।