গাইবান্ধায় ঘুমন্ত কৃষককে গলাকেটে হত্যা, জ্যাঠাতো ভাই অভিযুক্ত
গাইবান্ধায় ঘুমন্ত কৃষককে গলাকেটে হত্যা, জ্যাঠাতো ভাই অভিযুক্ত

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় গভীর রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় শাহজালাল (৫৫) নামে এক কৃষককে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ

রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কঞ্চিপাড়া (মাঝিপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজালাল ওই গ্রামের মৃত নিয়ামত উল্লাহর ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি বাঁশের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন শাহজালাল। তার স্ত্রী গোলেদা বেগম মূল ঘরে ঘুমালেও শাহজালাল টিনশেড বারান্দার একটি আলাদা কক্ষে শুয়েছিলেন। রাত ২টার দিকে গোঙানির শব্দ শুনে গোলেদা বেগম ছুটে গিয়ে স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার গলা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা ছিল এবং পাশেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি পড়ে ছিল। তার চিৎকারে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে ফুলছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের অভিযোগ

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে জ্যাঠাতো ভাই গোলাম হোসেন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে। নিহতের ছেলে পাঞ্জু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমার জ্যাঠাতো ভাই গোলাম হোসেনই আমার বাবাকে হত্যা করেছে। ঘটনার সময় আমার মা তাকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন। গোলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন করত। আমার বাবা চাচা হিসেবে এসবের প্রতিবাদ করতেন। প্রায় পাঁচ মাস আগে কোদাল দিয়ে মারধরের পর তার স্ত্রীকে নিরাপত্তার জন্য বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই গোলাম আমাদের পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি আমার বাবাকে হত্যা করেছে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত

ফুলছড়ি থানার ওসি দুরুল হোদা বলেন, “লাশের পাশ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের বারান্দার কক্ষের পাটাতনের নিচের অংশ খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় শাহজালালকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।