চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় পারিবারিক কবরস্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এক ব্যক্তির লাশ ভেলায় করে প্রায় ৫শ মিটার দূরে নেওয়ার পর অটোরিকশাযোগে আরও প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নিয়ে পাহাড়ে দাফন করতে হয়েছে।
মৃত ব্যক্তি ও ঘটনার বিবরণ
মৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ফোরকান (৬০)। তিনি সাতকানিয়া উপজেলার জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকালে তিনি মারা যান। বাড়ি ও কবরস্থানে পানি থাকায় ভেলায় করে লাশ নিরাপদ স্থানে নেওয়ার পর দস্তিদারহাট এলাকায় গোসল ও দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। পরে ফকির মুড়া ঈদগাহ মাঠে রাত ১০টায় জানাজা শেষে পাহাড়ে সরকারি খাস জায়গায় দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।
পরিবারের বক্তব্য
মৃতের ছেলে রাসেল উদ্দিন বলেন, "বাড়ির পাশেই আমাদের পারিবারিক কবরস্থান। সেখানে দাদা-দাদিসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের কবর রয়েছে। বাবা সবসময় সেখানেই দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। কিন্তু বন্যার কারণে সেই ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। কবরস্থানে কোমরসমান পানি থাকায় বাবাকে দূরের পাহাড়ে দাফন করতে হয়েছে।"
স্থানীয় ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "এখনো ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। বসতবাড়ি, কবরস্থান ও সড়ক প্লাবিত থাকায় লাশ ভেলায় করে নিরাপদ স্থানে নিতে হয়েছে। পরে সরকারি খাস জায়গায় দাফন সম্পন্ন করা হয়।" সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, "প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাছ ধরার সময় ফোরকান স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং পরে বাড়িতে মারা যান। প্রশাসনকে জানানো হলে দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হতো। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত ছিল।"
বন্যা পরিস্থিতি
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সাতকানিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত রয়েছে। যদিও গত দুই দিনে পানি কিছুটা কমেছে, তবুও পৌরসভাসহ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের অনেক এলাকা এখনো প্লাবিত। এতে প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।



