ধোবাউড়ায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় দ্রুত চার্জশিটের উদ্যোগ
ধোবাউড়ায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় দ্রুত চার্জশিট

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশুকে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর নদীর তলদেশে পুঁতে রাখার ঘটনায় করা মামলায় দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। আগামী সোমবার আদালতে চার্জশিট দাখিলের সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

পুলিশের উদ্যোগ

আজ শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শিশুটিকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা ও হত্যায় জড়িত চারজন আসামিকেই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর পর তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আগামীকাল রোববার ময়নাতন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার কথা রয়েছে। সোমবারের মধ্যে ডিএনও প্রতিবেদন পেলে সেদিনই আদালতে চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শিশুর ওপর নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার শেষ করতে এই কাজ করা হচ্ছে।

ঘটনার বিবরণ

নিহত শিশুর স্বজন ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৪ জুন বিকেল পাঁচটার দিকে নিজ বাড়ির পাশ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শিশুটির বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে স্থানীয় লোকজন কংস নদের বাঁকে তল্লাশি চালিয়ে শিশুর মরদেহ নদীর তলদেশে পুঁতা অবস্থায় খুঁজে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। রাতেই মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করাতে নেওয়া হয়। তখন শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখা যায়। ওই অবস্থায় দাফনের প্রস্তুতি বন্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে লাশ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় ১৫ জুন রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন। ওই মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করলেও এলাকার মারুফ মিয়া (১৯), আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১) ও মো. সাঈম মিয়াকে (১৯) সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ চার তরুণকে গ্রেপ্তারের পর ধর্ষণ ও হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা পায়। পরে গত মঙ্গলবার ও বুধবার চারজন আসামিকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তনয় সাহার আদালতে তোলা হলে আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মানববন্ধন ও দাবি

এদিকে ৫ বছরের শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার কার্যকর করার দাবিতে এলাকায় বিভিন্ন সংগঠন নিয়মিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরেও স্থানীয় গোয়াতলা বাজারে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় এবং ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়।

মামলার বাদী শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমার ছোট্ট মেয়েকে যেভাবে নৃশংসতা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে আমি সেই আসামিদের দ্রুত বিচার চাই। সব আসামির ফাঁসি চাই। আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে আর যেন কারও মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।’