দোয়ারাবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতে গয়াছ মিয়ার আস্তানা ঘর থেকে অস্ত্র উদ্ধার, সরে যেতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
দোয়ারাবাজারে আস্তানা ঘর থেকে অস্ত্র উদ্ধার, সরে যেতে আল্টিমেটাম

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর পঞ্চায়েতি কবরস্থানে গড়ে তোলা গয়াছ মিয়ার ‘আস্তানা ঘরে’ ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে আস্তানা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং আস্তানাটি নিজ দায়িত্বে ভেঙে কবরস্থান থেকে সরে যেতে গয়াছ মিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

রোববার (২১ জুন) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশিদুল ইসলাম এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশিদুল ইসলাম নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গয়াছ মিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আস্তানা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার আস্তানা থেকে কুড়াল, লোহার রড ও কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে।

এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে

অভিযানের পর এলাকাজুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটায় স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিক, সংবাদপত্র ও প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বাজিতপুর গ্রামের মাওলানা কামাল উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের এ উদ্যোগে এলাকাবাসীর দাবি পূরণ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্বের ঘটনা

এর আগে ‘অলির নির্দেশে কারামুক্ত যুবক জঙ্গলে বানালেন পীরের আস্তানা’ শিরোনামে দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইনে খবর প্রকাশিত হয়। স্থানীয় ও পুলিশের বরাতে ওই রিপোর্টে বলা হয়, সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া (৩৫) একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি কবরস্থানের ভেতরে শতবর্ষী একটি বটগাছের নিচে বাঁশ-বেত দিয়ে দোতলা ছাপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। প্রতিদিন সেখানে বসে মাদকের আড্ডা। অন্যদিকে গয়াছ মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইত্তেফাক ডিজিটালকে তিনি বলেন, আমি কারাগারে ছিলাম। সেখান থেকে মুক্তি পেয়ে আমার বাড়িতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি আমার ঘরবাড়ি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পরে স্বপ্নে আমি একজন অলি আমাকে কবরস্থানে জঙ্গলে ঘর করার পরামর্শ দেন। ওই অলির কথা শুনে স্থানীয়দের পরামর্শে আমি এখানে ঘর করেছি। এটা নিয়ে অনেকেই আমার পেছনে লেগে আছে। তারা আমার ক্ষতি করতে চায়।