ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের তৃতীয় দেশের সঙ্গে ৫৯তম দেশের তুলনা হয় না বলেই ধরে নেওয়া হয়। বিশেষ করে দুই দলের মুখোমুখি তিন দেখাতেই যখন জয় পেয়েছে তিন নম্বরে থাকা দেশটি। স্পেন আর সৌদি আরবের মধ্যেও তুলনা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু পরিস্থিতিটা এমন, সৌদি আরবের সঙ্গে আজকের ম্যাচটা স্পেনের জন্য রীতিমতো ‘বিগ’ ম্যাচ। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের চেয়েও চার ধাপ পেছনে থাকা কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করেছে স্পেন। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে স্বীকার করুন আর না করুন, তিনি চাপেই আছেন।
ইউরোজয়ী দলের চাপ
২০২৪ ইউরোজয়ী দলটাকে এবার ধরা হচ্ছিল ফেবারিটদের মধ্যে অন্যতম। গত দুই বছর ধরে তর্কযোগ্যভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে আনন্দদায়ী ফুটবল স্পেনই খেলেছে। কিন্তু কেপ ভার্দের বিপক্ষে যেন ফিরে এল ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের পরের সেই মলিন স্পেন দল, যারা সর্বশেষ তিন বিশ্বকাপে ১২টি ম্যাচ খেলে জিততে পেরেছে মাত্র তিনটি। প্রথম ম্যাচের ড্রটা মনে করিয়ে দিয়েছে সেই একঘেয়ে স্পেনকে, যারা ২০২২ বিশ্বকাপে সর্বশেষ গোল দেওয়ার পর আড়াই হাজার পাস দিয়েও একটি গোলও করতে পারেনি।
ইয়ামালের ওপর ভরসা
নকআউট পর্বে যেতে হলে আজকের ম্যাচে তাই জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই স্পেনের। সে জন্য লা ফুরিয়া রোজাদের এমন একজনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে, যার বয়স এখনো ১৯ হয়নি। লামিন ইয়ামাল কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকে মাঠে নামেননি, চোট থেকে মাত্র সেরে ওঠায় তাঁকে একাদশে রাখার ঝুঁকি নেননি দে লা ফুয়েন্তে। হয়তো পুরো ম্যাচেই বিশ্রাম দিতেন, কিন্তু গোলের জন্য মরিয়া হয়ে বাধ্য হয়ে মাঠে নামিয়েছেন। ইয়ামাল গোল পাননি, তবে মাঠে নেমে নিজের ঝলক দেখিয়েছেন কিছুটা। দে লা ফুয়েন্তে সেই ম্যাচের পর বলেছিলেন, ‘ইয়ামাল কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নেমেই দেখিয়েছে সে কী করতে পারে। ও হয়তো বেশি সময় খেলেনি, তবে আমাদের মনে হয়েছে সেই ম্যাচের জন্য সেটাই ঠিক আছে।’
সমস্যা হচ্ছে, সৌদি আরবের বিপক্ষেও ইয়ামালকে শুরু থেকে দেখা নাও যেতে পারে। ইয়ামাল নিজেই ম্যাচের দুই দিন আগে বলেছেন, ৯০ মিনিট খেলার মতো অবস্থায় তখনো আসেননি। ইয়ামালের সঙ্গে সেই ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন আরেক উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসও। ট্যাকটিক্যালি স্পেন কোচ এই দুজনকে আজ শুরু থেকেই চাইবেন। রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ আর গাভির মতো চার মিডফিল্ডার খেলিয়েও কেপ ভার্দের রক্ষণ ভাঙার মতো কিছু করতে পারেনি স্পেন।
ট্যাকটিক্যাল সমন্বয়
এর একটা বড় কারণ সম্ভবত পেদ্রিকে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে ও গাভিকে উইংয়ে খেলানো, যে ভূমিকায় দুজনের কেউই অভ্যস্ত নন। ইউরোতে বাঁয়ে ইয়ামাল ও ডানে নিকো উইলিয়ামসের সেই যুগলবন্দীটা আজ খুব করেই দরকার স্পেনের। সব মিলে দে লা ফুয়েন্তের ওপর চাপ বাড়ছে। যদিও মুখে তা স্বীকার করছেন না স্পেন কোচ, ‘আমাদের ওপর ভরসা রাখুন। বিশ্বকাপ তো মাত্র শুরু। আমাদের লক্ষ্যটা অনেক বড়। আমরা চেষ্টা করছি, যেটা করতে চাইছি সেটাই করতে পারব।’
স্পেন ম্যাচ শেষে দে লা ফুয়েন্তে হয়তো চোখ রাখবেন গ্রুপের অন্য ম্যাচ উরুগুয়ে-কেপ ভার্দের ওপরও। এই গ্রুপের দুই ম্যাচই ড্র হওয়ায় সবাই আছে একই সমতলে। স্পেন ম্যাচ থেকে প্রেরণা নিয়ে কেপ ভার্দে নিশ্চিতভাবেই আরেকটি অঘটনের দিকে তাকিয়ে থাকবে। সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্রয়ের পর কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয়টা খুব করে দরকার উরুগুয়েরও।



