চার বছর ধরে অকেজো পড়ে আছে ভারতের উপহার দেওয়া আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স
চার বছর ধরে অকেজো ভারতের উপহার দেওয়া আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আঙিনায় একটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স প্রায় চার বছর ধরে পড়ে আছে। ছোট লোহার খুঁটির ওপর টিনের ছাউনির নিচে রাখা অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে জমেছে ধুলাবালুর আস্তরণ। ভারত সরকার উপহার দেওয়া লাইফ সাপোর্ট সুবিধাসংবলিত এই অ্যাম্বুলেন্সটি এক দিনের জন্যও ব্যবহার করা যায়নি।

অ্যাম্বুলেন্স অকেজো থাকার কারণ

হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অ্যাম্বুলেন্সটি চালানোর জন্য চালক এবং টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেয়নি। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বরাদ্দও দেওয়া হয়নি। ফলে চার বছর ধরে এটি অকেজো পড়ে আছে এবং এর যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার পথে।

চিকিৎসকদের প্রতিক্রিয়া

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) টিবলু কান্তি দে বলেন, 'আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি সচল থাকলে অনেক মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচানো সহজ হতো। এটি চালু করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেক দিন ধরে চেষ্টা চালাচ্ছে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের অভিযোগ

হাসপাতালে আসা স্থানীয় নারী আনিমা দাশ বলেন, 'শ্বাসকষ্টসহ আরও অনেক রোগে আক্রান্ত মানুষকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জেলা সদর হাসপাতাল নিতে হয়। এই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি চালু থাকলে মানুষের অনেক উপকার হতো। কিন্তু চার বছর ধরেই দেখছি অ্যাম্বুলেন্সটি ফেলে রাখা হয়েছে। সরকারের কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্য বিভাগের চেষ্টা

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, 'আমরা অনেক চেষ্টা করেছি অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করার জন্য। কিন্তু এটি চালাতে যে জনবল লাগবে, তা আমরা পাচ্ছি না। যার কারণে গত চার বছরে এটি এক দিনের জন্যও সেবার কাজে আসেনি। আবারও চিঠি লিখে অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করার উদ্যোগ নেব।' তিনি আরও জানান, গাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণ ও করণীয় নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের অবস্থান

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেও কেউ আমাকে জানায়নি। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাতেও কেউ এটি তুলে ধরেননি। এটি খতিয়ে দেখে করণীয় ঠিক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলব।'