যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৪ যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী শাহানুর আক্তারকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের বিবরণ

রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। এই মামলায় মোট ছয়জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে।’

মামলার ঘটনা

প্রায় এক যুগ আগে শাহানুর আক্তার প্রথম স্বামী মো. হারুনের মৃত্যুর পর জাহাঙ্গীর আলমকে বিয়ে করেন। তারা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খালপাড় এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে দিনমজুরের কাজ করতেন। জাহাঙ্গীর আলম নেশা করতেন এবং শাহানুরের কাছে যৌতুক দাবি করতেন। ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর শাহানুরের মেয়ে ঘুম থেকে উঠে নাশতা খাওয়ার জন্য মাকে ডাকতে গিয়ে ঘরের দরজা বাহির থেকে আটকানো দেখতে পায়। পরে তার ভাই মো. হৃদয়কে ডেকে এনে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর শাহানুরের গলাকাটা রক্তাক্ত মৃতদেহ কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও বিচার

নিহত শাহানুরের ভাই জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ জুন আসামি জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. রফিকুল ইসলাম। চার্জশিটে বলা হয়, আসামি যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় শাহানুরকে শোবার ঘরে খাটের ওপরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মৃতদেহ কাঁথা দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যান তিনি। বিচারকালে ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে আদালতে উপস্থিত করা হয়, পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ