ভোলায় পরিবহণের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কোস্টগার্ডের জব্দ করা প্রায় কোটি টাকার ইলিশ মাছ গায়েবের অভিযোগে হাইকোর্ট বিচারিক তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।
ঘটনার বিবরণ
গত ১২ মে ভোলার চরফ্যাশন থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা বৈধভাবে কেনা ইলিশ মাছ ঢাকায় নেওয়ার পথে জব্দ করে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের অপারেশন টিম। জেলা শহরের কালিনাথ বাজার এলাকা দিয়ে পরিবহণের সময় তিনটি ট্রাকে ১৫৫টি ককশিটে বোঝাই বড় আকারের ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। এসব মাছের ক্রয়মূল্য ছিল ৯৪ লাখ ২ হাজার ৭৮৪ টাকা।
জব্দ করার পর মাছের কিছু অংশ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দেওয়ার নামে অধিকাংশ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে। এছাড়া জব্দ মাছের তিন ভাগ বরিশালে নিয়ে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আলোচিত হচ্ছে।
আইনি পদক্ষেপ
ঘটনাটি তদন্ত করে মাছ উদ্ধার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে গত ৩ জুন স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। ফল না পেয়ে কামাল মাঝিসহ ১১ জন মৎস্য ব্যবসায়ী গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া জানান, ‘গত ১২ মে’র এই ঘটনা তদন্তে বিচারিক কমিটি গঠন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইলিশ মাছের এই বিশাল চালান জব্দের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে যেভাবে তা আত্মসাৎ বা নিষ্পত্তি করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করবে কমিটি।’
তদন্ত কমিটির গঠন
আদেশে একজন অতিরিক্ত জেলা জজের নিচে নন- এমন পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিচারিক তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রুলে পরিবহণের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও ইলিশ বেআইনিভাবে জব্দ, আনুষ্ঠানিক জব্দ তালিকা প্রস্তুত না করা ও কোনো বিচারিক আদেশ ছাড়া নিষ্পত্তির বিষয়ে নিষ্ক্রিয়তা-ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মৎস্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে শুনানি
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া ও রোকনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন।
প্রসঙ্গত, ‘ভোলায় জব্দ ইলিশ গায়েব’ শিরোনামে গত ২০ মে যুগান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।



