জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে এসে চারজন প্রার্থী আটক হয়েছেন। অভিযোগ, তাঁরা নিজেরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে প্রক্সি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। পরে মৌখিক পরীক্ষায় হাতের লেখার মিল না পাওয়ায় বিষয়টি ধরা পড়ে। আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তাঁদের শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পরীক্ষার বিবরণ ও আটকের ঘটনা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অফিস সহায়কের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য গত ১৯ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ১০৭ জন প্রার্থী নির্বাচিত হন। মৌখিক পরীক্ষা ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩০ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।
মৌখিক পরীক্ষায় চারজন প্রার্থী আশানুরূপ পারদর্শিতা দেখাতে ব্যর্থ হন। এ সময় লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের হাতের লেখার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষায় হাতের লেখার মিল না থাকায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেন, লিখিত পরীক্ষায় তাঁরা নিজেরা অংশ না নিয়ে অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে প্রক্সি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
দোষ স্বীকার ও আইনানুগ ব্যবস্থা
লিখিতভাবে দোষ স্বীকার করার পর তাঁদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন মোমিনুল ইসলাম, সোহেল রানা, মো. রোমান ও মামুন মিয়া।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রক্সি পরীক্ষার প্রবণতা ফের সামনে এনেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের জালিয়াতি রোধে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।



