জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতার সঙ্গে অন্য কারও সম্মানী ভাতার কোনো তুলনা হতে পারে না। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা ঠিক থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা এক টাকা হলেও বাড়ানোর দাবি জানান।
মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধির দাবি
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সংসদে বক্তৃতাকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের (বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম, বীর প্রতীক) ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা। এটাকে সমর্থন করি।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতার সঙ্গে অন্য কারও সম্মানী ভাতার কোনো তুলনা হতে পারে না। যদি হয়, তাহলে পাঁচ বছর পরে খেসারত দিতে হবে।’
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ও সংস্কৃতি
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপির যাঁরা সংসদ সদস্য হয়েছেন, তাঁদের ৯৯ শতাংশ শেষ পর্যন্ত বলতে হয়েছে, আমরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের দল, আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।’ অন্যদিকে বিরোধী দলের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তারা বলছে তারা জুলাইয়ের পক্ষে এবং সৎ নেতৃত্বের পক্ষে।’
শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব সমর্থন করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘ভাত এবং তরকারির যেমন সম্পর্ক, শিক্ষা এবং সংস্কৃতির ঠিক তেমন সম্পর্ক। একটাকে অনাহারে রেখে আরেকটা সুস্থভাবে চলতে পারে না।’ তিনি শৈশবে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও গ্রামীণ সংস্কৃতি চর্চার কথা তুলে ধরেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বর্তমান প্রসঙ্গ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির ও মূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদে প্রতিদিন স্লোগান দেওয়ার প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, ‘তাদের পোশাক দেখলেই বুঝি আমি, তারা কারা। সেই পোশাকি লোকজনের সংখ্যা এখন বেড়ে গেছে। তারা পৃথিবীর কোনো সভ্যতা, সংস্কৃতি শুনতে চায় না। ধর্মকে নিয়ে শুধু ব্যবসা করতে চায়। তারা ধর্ম ব্যবসায়ী।’
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সরকার যদি মনে করে সেখানে মন্দির বা রামমূর্তি নির্মাণ ঠিক হবে না, তাহলে বন্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি, ওই ১০০ না, ৩০০ মন্দির মূর্তি বানাক, আমি মুসলমান, আমার কি আইলো গেল? আমি তো ওই দিকে তাকাই না। আমি প্রয়োজনে ২৫ তলা মসজিদ করব। অসুবিধা কী? ওরা মন্দিরে পূজা করবে, আমি আমার মসজিদে নামাজ পড়ব, এক সাথে কি আমরা থাকব না?’
তিনি পীর সাহেবদের হত্যা ও মাজার ভাঙার ঘটনার সমালোচনা করে প্রশ্ন রাখেন, ‘কুষ্টিয়াতে কুপাইয়া মারলেন কেন? ফরিদপুরে আগুন জ্বালায়া মারলেন কেন? শাহজালালের মাজার ভাঙার জন্য আমার এক ভাই চার কোটি টাকা ঘোষণা করে কেন?’
মেসি-রোনালদো ও সংসদের ‘গেম’
ফজলুর রহমান বলেন, ‘মেসি ও রোনালদোকে যদি ঢাকা আনা হয় এবং যদি ফ্রেন্ডলি খেলা হয়, তাহলে একজন মানুষ একদিন খেলা দেখতে যাবে। দ্বিতীয় দিন আর যাবে না।’ তিনি সংসদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘পার্লামেন্টে যে গেমটা হচ্ছে, এই গেমটা চললে কিছু দিন পরে মাঠ খালি পড়ে থাকবে।’



