পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করতে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
তাজিয়া মিছিলের রুট ও ট্রাফিক ডাইভারশন
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ডিএমপি কমিশনার তাজিয়া মিছিলের বিশেষ রুট ও ট্রাফিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন। আগামী ২৬ জুন সকাল ১০টায় হোসেনি দালান ইমামবাড়ার উত্তর গেট থেকে মিছিল শুরু হয়ে হোসেনি দালান মোড়, বকশীবাজার লেন, আলিয়া মাদ্রাসা মোড়, বকশীবাজার (কলপাড়) মোড়, উমেশ দত্ত রোড, উর্দু রোড মোড়, হরনাথ ঘোষ রোড, লালবাগ চৌরাস্তা মোড়, গৌর-এ-শহীদ মাজার মোড়, এতিমখানা মোড়, আজিমপুর চৌরাস্তা মোড়, ইডেন মহিলা কলেজ, নীলক্ষেত মোড়, মিরপুর রোড, ঢাকা কলেজ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২নং রোড, বিজিবি ৪নং গেট ও সাত মসজিদ রোড (জিগাতলা) হয়ে চূড়ান্ত গন্তব্য ধানমন্ডি লেক (কারবালা)-এ গিয়ে মিলিত হবে।
এই রুটগুলোতে সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক ডাইভারশন থাকবে। মিছিল চলাকালীন তীব্র যানজট এড়াতে নগরবাসীকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করেন ডিএমপি কমিশনার। ২৬ জুন সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত রুটগুলোতে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে বলে জানান তিনি।
জরুরি ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি
তাজিয়া মিছিলের দীর্ঘ পথ ও জমায়েতের কথা বিবেচনা করে আপদকালীন সময়ে ফায়ার ফাইটার বা ফায়ার টেন্ডার, অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রাখা হবে। পাশাপাশি ধানমন্ডি লেক কারবালা সংলগ্ন জলাশয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দক্ষ ডুবুরি দল মোতায়েন থাকবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।
আয়োজক কমিটির জন্য নির্দেশনা
আয়োজক কমিটির প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রতিটি আয়োজক কমিটিকে তাদের নিজস্ব পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক (আইডি কার্ড বা নির্দিষ্ট পোশাকসহ) মিছিলে ও ইমামবাড়ায় মোতায়েন রাখতে হবে, যারা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে শৃঙ্খলা বজায় রাখবে। পাইক মিছিল সংক্রান্তে বিদ্যমান সব নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। মিছিলে ব্যবহৃত নিশানের উচ্চতা ১২ ফুটের বেশি হওয়া যাবে না। কোনো প্রকার ধারালো ধাতব বস্তু, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, চাকু, লাঠি, ছোরা, তরবারি, বর্শা, ব্যাগ, পোটলা বা সুটকেস নিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করা যাবে না। এছাড়া আগত ব্যক্তিদের ব্যাগ, সুটকেস, ছাতা, কুকার জাতীয় সন্দেহজনক প্যাকেট বা বক্সসহ প্রবেশে বাধা প্রদান করতে হবে। উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র বা পিএ সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না এবং কোনো প্রকার ঢাক-ঢোল বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে আতশবাজি বা যেকোনো ধরনের পটকা ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
সাইবার মনিটরিং ও জরুরি যোগাযোগ
অনলাইন গুজব প্রতিরোধে বিশেষ বিশেষজ্ঞ টিম দ্বারা সাইবার পেট্রোলিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং কার্যক্রম চলমান থাকবে। কোনো ইমামবাড়া বা মিছিলের রুটে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে, তাৎক্ষণিকভাবে কর্তব্যরত পুলিশ কিংবা ডিএমপির ট্রাফিক কন্ট্রোলরুম- ০১৭১১০০০৯৯০, ০১৭১১০০০৯৯১, পুলিশ কন্ট্রোলরুম-০১৩২০০৩৭৮৪৫, ০১৩২০০৩৭৮৪৬ ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।
ইমামবাড়ার সম্মানিত নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তি, অন্যান্য ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি ও সচেতন নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতায় পবিত্র আশুরার এই দীর্ঘ কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।



