ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ২০২৪ সালের বাসযোগ্যতা সূচকে বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান তৃতীয় সর্বনিম্ন। ১০০-এর মধ্যে ঢাকার স্কোর মাত্র ৪২, যা একে 'অসহনীয়' শহরের কাছাকাছি স্থান দিয়েছে। ঢাকার চেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্ক ও লিবিয়ার ত্রিপোলি।
পাঁচ সূচকে ঢাকার অবস্থা
ইআইইউ স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো—এই পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলোর বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করে। ঢাকা কেবল শিক্ষা সূচকে অপেক্ষাকৃত ভালো স্কোর (৬৭) পেয়েছে। বাকি চার সূচকেই অবস্থা উদ্বেগজনক: সংঘাত ও অস্থিরতার ঝুঁকিতে স্কোর ৪৫, স্বাস্থ্যসেবায় ৪২, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৩২ এবং অবকাঠামোতে মাত্র ২৭।
স্বাস্থ্যসেবা ও অপরাধপ্রবণতা
স্বাস্থ্যসেবায় ঢাকার স্কোর ৪২, যা ইঙ্গিত করে নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কতটা সীমিত। অন্যদিকে, সংঘাত ও অস্থিরতার ঝুঁকিতে ৪৫ স্কোর ঢাকাকে অপরাধপ্রবণ শহর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্কৃতি ও পরিবেশ সূচকে নিম্ন স্কোর দেখায় যে একটি প্রাণবন্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ঢাকা পিছিয়ে রয়েছে—যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অবকাঠামোয় চরম ভোগান্তি
অবকাঠামো সূচকে ঢাকার স্কোর মাত্র ২৭, যা সড়ক যোগাযোগ, গণপরিবহন, মানসম্মত আবাসন, জ্বালানি ও পানি সরবরাহের চরম ঘাটতি নির্দেশ করে। বছরের পর বছর বাজেটে অবকাঠামোতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও এই দুরবস্থা প্রশ্ন তুলেছে যে উন্নয়ন মূলত ১০-১৫ শতাংশ নাগরিকের স্বার্থে হচ্ছে। আবাসন খাতেও একই বৈষম্যমূলক নীতি চলছে, যার ফলে লাখ লাখ নিম্ন আয়ের মানুষ ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা ছাড়াই বস্তিতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
নীতিনির্ধারকদের করণীয়
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইআইইউর এই সূচক থেকে নীতিনির্ধারকদের শিক্ষা নেওয়া জরুরি। অবকাঠামো খাতে বৈষম্যমূলক উন্নয়ন নীতি থেকে বেরিয়ে এসে সিটি করপোরেশনকে প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। সরকার অর্থনীতির গতি ফেরাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চাইলে ঢাকার বাসযোগ্যতা সূচক বাড়ানো অপরিহার্য, নতুবা বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হলেও বাংলাদেশে আসতে চাইবেন না।



