ঘিওরে প্রেমঘটিত টানাপোড়েনে সেতু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা তরুণীর
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় প্রেমঘটিত টানাপোড়েনের জেরে এক কলেজপড়ুয়া তরুণী (১৮) সেতু থেকে অন্তত ১০০ ফুট নিচে ধলেশ্বরী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত পেঁচারকান্দা সেতুতে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুরে ওই তরুণী পেঁচারকান্দা সেতুর ওপর থেকে আচমকা ধলেশ্বরী নদীতে ঝাঁপ দেন। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সৌভাগ্যবশত দ্রুত তাকে নদী থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে তাকে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তরুণীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সাইংজুরী গ্রামের এক যুবকের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়, কিন্তু অভিযুক্ত প্রেমিক বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তিনি তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার চরম ক্ষোভ ও অভিমানে একটি চিরকুট লিখে ধলেশ্বরী নদীর পেঁচারকান্দা সেতু থেকে ঝাঁপ দেন তরুণী। তরুণীর দাবি, বিয়ের প্রলোভনে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। বিয়ের কথা বললে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে চাওয়ায় মানসিক চাপ ও অভিমানে নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি।
পুলিশের তদন্ত
ঘিওর থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, তরুণীর সেতু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত প্রেমিকের অবস্থান
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রেমিকের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি, ব্যবহৃত ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার পরিবার এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি। ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার দূরসম্পর্কের ভাই। প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পারিবারিকভাবে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু সে রাজি না হয়ে উল্টো মেয়ের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এই মানসিক অশান্তি থেকেই তার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এখন পুরো বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তাই তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
আইনি পদক্ষেপ
সোমবার রাতেই ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত প্রেমিকের বিরুদ্ধে ঘিওর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত প্রেমিক পার্শ্ববর্তী বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের সাইংজুরী গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী তরুণী মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।



